﻿<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>গল্প &#8211; ঊর্মি</title>
	<atom:link href="https://urmi-bccw.com/category/chotoder-bhuban/golpo-chotoder/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://urmi-bccw.com</link>
	<description>মাসিক শিশুতোষ সাহিত্য পত্রিকা</description>
	<lastBuildDate>Mon, 05 Oct 2026 06:15:11 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=7.1.3</generator>

<image>
	<url>https://urmi-bccw.com/wp-content/uploads/site-icon-temp-512-150x150.jpg</url>
	<title>গল্প &#8211; ঊর্মি</title>
	<link>https://urmi-bccw.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>বগুড়া ও মহাস্থানগড়</title>
		<link>https://urmi-bccw.com/%e0%a6%ac%e0%a6%97%e0%a7%81%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a6%be-%e0%a6%93-%e0%a6%ae%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a5%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%97%e0%a6%a1%e0%a6%bc/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[urmi]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 16 Sep 2026 19:01:51 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<guid isPermaLink="false">http://urmi.local/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-8-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a6%bf-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa/</guid>

					<description><![CDATA[ছোটদের ভুবন — ভ্রমণ · সেপ্টেম্বর ২০২৬ ভ্রমণ কাহিনী বগুড়া ও মহাস্থানগড় — সাদিকা মালিহা...]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="background: #eef6fb; border: 1px solid #d0e6f2; border-radius: 8px; padding: 6px 10px; display: inline-block; font-size: 9pt; color: #0a4a6b; margin-bottom: 10px;">ছোটদের ভুবন — ভ্রমণ · সেপ্টেম্বর ২০২৬</div>
<h3 style="font-family: 'Noto Serif Bengali',serif; color: #075c4e; font-size: 15pt; margin: 0 0 4px;">ভ্রমণ কাহিনী</h3>
<h4 style="font-family: 'Noto Serif Bengali',serif; color: #075c4e; font-size: 13pt; margin: 0 0 4px;">বগুড়া ও মহাস্থানগড়</h4>
<p style="font-size: 10pt; color: #6a8580; margin: 0 0 10px;">— সাদিকা মালিহা সখ</p>
<p>অনেকেই আমার মতো ঘোরাঘুরি করতে ভীষণ পছন্দ। আজ আমি আমার ঘোরাঘুরির ছোট ছোট কিছু লিখছি। আমার ঘোরাঘুরির স্থানটা বগুড়া জেলার মহাস্থানগড়।</p>
<p>ভ্রমণে যাবার আগেই আমি বগুড়া জেলা ও মহাস্থানগড় সম্পর্কে কিছু তথ্য জানার চেষ্টা করেছি, যাতে আমাদের ঘুরে বেড়ানোটা আরো প্রাণবন্ত হয়।</p>
<p>উত্তরবঙ্গের প্রবেশ দ্বার হিসেবে খ্যাত বগুড়া জেলা। যেটি বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রাজশাহী বিভাগের একটি শিল্প ও পর্যটন সমৃদ্ধ জেলা। বাংলার স্বাধীন সুলতান নাসির উদ্দিন বগরা খানের নাম অনুসারে বগুড়ার নামকরণ করা হয়। মহাস্থানগড় বগুড়ার একটি বিখ্যাত ঐতিহাসিক স্থান।</p>
<p>সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, সুফি, লালন ও মারাটি সংস্কৃতি মিশে একাকার হয়ে গেছে। বগুড়া জেলা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ৭নং সেক্টরের অধীনে ছিলো। এছাড়া মহাস্থানগড় বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন পুরাকীর্তি। প্রসিদ্ধ এই নগরী একসময় পুন্ড্রনগর নামে পরিচিত ছিলো। অবাক করা ব্যাপার এটি একসময় বাংলার রাজধানী ছিলো। ২০১৬ সালে এটিকে সার্কের রাজধানী হিসাবে ঘোষণা করা হয়। এটি বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় করতোয়া নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত।</p>
<p>আমরা রাত ৯:৪৫ মিনিটে লালমনিরহাট এক্সপ্রেসে ট্রেনে রওনা হলাম কমলাপুর স্টেশন থেকে। আমার আমি, মা আর ছোট ভাই- এ হলো আমাদের ভ্রমণগ্রুপ। প্রয়োজনীয় কিছু ওষুধ ও শুকনো খাবার নিয়ে ট্রেনের সঙ্গী হলাম। ট্রেন ছাড়লো যথাসময়ে। সময়টা মাঘ মাস তাই কুয়াশা আর ভীষণ ঠাণ্ডায় জমে যাওয়া রাত পার করে খুব ভোরে পৌঁছে গেলাম বগুড়া স্টেশনে। স্টেশনে দুপা দিয়ে নামতেই সে এক অন্যরকম শীতল অনুভূতি। শীত এই প্রথম আমার জীবনে নতুন করে ধরা দিলো। শীতের প্রকোপ এতোটাই বেশি যে, এক পায়ের সাথে অন্য পায়ের এমনিতেই ধাক্কা লেগে যাচ্ছে। অনেক কষ্টে এক চায়ের দোকানে গিয়ে নিজেদের সামলে বসলাম। সূর্যের আলো আরও একটু প্রখর হলে বেলা ৮টার দিকে অটোতে করে শহরে নতুন গড়ে ওঠা মম ইন পার্ক এন্ড রিসোর্টের পূর্ব নির্ধারণ করা কক্ষে প্রবেশ করলাম। ‘মাঘের শীত বাঘ কাঁপে’ প্রবাদটার প্রমাণ পেলাম বগুড়ায় এসে। বেলা ১০টায় হোটেল কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় একটা ট্যাক্সিতে করে যাত্রা শুরু করলাম। প্রথমে মহাস্থানগড় ও জাদুঘর পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে টিকেট কাটলাম। ভেতররে ঢুকে মহাস্থানগড় ও জাদুঘরের বিভিন্ন পুরানো ও ঐতিহাসি ক পুরাকীর্তি দেখলাম। কষ্টি পাথরের মূর্তি তৎকালীন ব্যবহারিক মাটির আসবাবপত্র বিভিন্ন সালের মুদ্রা ও পোষাক দেখে জেনে নিলাম তখনকার জীবনধারণের বৈচিত্র্য ও বৈশিষ্ট্য। যাদুঘরের মৌর্য, পাল, সেন ও অন্যান্য রাজ বংশের সোনা, রুপা, ব্রোঞ্জ, পাথর, কাসাসহ বিভিন্ন মূল্যবান ধাতব পদার্থ, পোড়ামাটির তৈরি মূর্তি, খোদাই করা ইট, শিলালিপি, আত্মরক্ষার নানা ধরনের অস্ত্র, প্রাচীন অলংকার ইত্যাদি ও সংরক্ষিত যা দেখে অবাক হওয়ার মতো।</p>
<p>বগুড়াতে সাধারণত মহাস্থানগড় ও জাদুঘরের ছাড়াও আরও কিছু ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান রয়েছে যা আমাদের জানার পরিধিকে আরো সমৃদ্ধি করবে। সাধারণত ওই সকল দর্শনীয় স্থানের কথা শোনা যায় না। যেমন- বিহার ধাপ, পরশুরামের প্রাসাদ, মানকালীয় কুন্ড, ভাসু বিহার, যোগীর ভবন, সঙ্ঘানকোট স্তূপ, গবিন্দ ভিটা, বেহুলার বাসরঘর, বৈরাগীর ভিটাসহ নানা ঐতিহাসিক প্রত্মতাত্ত্বিক নিদর্শন।</p>
<p>মঙ্গলকোট স্তূপ মহাস্থানগড় থেকে ১ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। মহাস্থানগড়ের পশ্চিমে কালীসহ সাগর এবং পদ্মাদেবীর বাসভবন। জাদুঘরের ঠিক সামনেই গোবিন্দ ভিটা। মহাস্থানগড়ের বাসস্ট্যান্ড থেকে ২ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে একটি বৌদ্ধ স্তম্ভ রয়েছে যা সম্রাট অশোক নির্মাণ করেছিলেন। এর উচ্চতা প্রায় ৪৫ ফুট। এটাই বেহুলার বাসরঘর নামে পরিচিত। এ সকল স্থাপনাগুলো কাছাকাছি ও একই জায়গাতে হওয়ায় খুব কম সময়ে দেখে শেষ করা যায়। সময় ঘড়ির কাটায় ১টা। ছবি তোলা আর ঘুরতে ঘুরতে খাবার খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি। দুপুরে ছোট্ট একটা হোটেলে আলুর বাটামে আর আলুর ডাল সাথে সাধারণ ভাত মাছ খেয়ে নিলাম তৃপ্তি সহকারে। একটু বলে রাখি বগুড়া জেলা আলুর জন্য বিখ্যাত। তাই এখানকার প্রতি ঘরেই প্রতিদিন আলুর নানা পদ থাকেই। যেমন— আলুর কাজর, আলুর ডাল, আলুর বাটাম, আলু খাটি ইত্যাদি। আমার কাছে আলুর বাটাম দারুণ লেগেছে। বেলা বাজে ৩টা। হাতে সময় কম, তাই দেরি না করে বেরিয়ে পড়লাম পরবর্তী ও শেষ জায়গাটা ঘুরে দেখার জন্য।</p>
<p>প্রতিবছর বাংলা সনের মাঘ মাসের শেষ তিনদিনের মধ্যে আগত বুধবার অথবা ফাল্গুন মাসের প্রথম বুধবার বইমেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে এখানে। আমরা বইমেলা পেলাম। মেলায় পৌঁছাতে ৫টা বেজে গেলো। ওখানে এসে জানলাম এই মেলা জামাইমেলা, মাছেরমেলা, পোড়াদহমেলাও ইত্যাদি বিভিন্ন নামেও পরিচতি। এমন মেলার গল্প শুনেছি কিন্তু দেখিনি। তবে এবার দেখে খুবই রোমাঞ্চকর লাগলো। এ মেলার প্রধান আকর্ষণ মাছ। বধুরা স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়ি আসে এবং মেলায় কেনাকাটা করে। মেলায় ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে আনন্দ পেয়েছি। ম্যাজিক খেলা দেখেছি। কিছু টাকার বিনিময় দুটো ছোট ছোট ম্যাজিক শিখেছি। মেলায় ছিল যাত্রাপালা, সার্কাস আর পুতুল নাচ। ২০ টাকার লটারিতে পায়ের এক জোড়া নুপুর জিতেছি। এছাড়া স্থানীয়দের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও প্রদর্শিত হচ্ছিল। সময় স্বল্পতার কারণে সবকিছু দেখা হলো না। তবে অনেক বড় বড় মাছ কিনতে ও বেচতে দেখেছি। একেকটা মাছ এক-দেড় মনেরও বেশি। প্রায় শতেকখানি মাছের দোকানের পসরা অভূতপূর্ব। সময় রাত আটটা। ঘড়ির কাটা বলছে ফিরতে হবে। ১১টায় নিটনিয়া স্টপেজ থেকে আমাদের গাড়ি। তাই মেলায় ঘোরা অসম্পূর্ণ রেখেই ফিরে এলাম ৯টায় বাস স্টপেজে।</p>
<p>বগুড়া যাবো আর দই খাবো না তা কি হয়। এবার দই খাওয়ার অভিজ্ঞতা বলি। মেলা থেকে কিনেছিলাম কটকটি, কদমা, বকুল দানাদার আর বারো ভাজা। এসব আমার স্কুলে ও কাছের বন্ধুদের দেবো বলে বেশি করে কিনেছি। বিখ্যাত দোকান এশিয়ান সুইটস আর চিজনিপাতার দই থেকে ভাড় ও সরা দই নিয়ে নিলাম। ঘি আর ‘চিকন সেমাই’ নিলাম। চিকন সেমাইও বগুড়ার বিখ্যাত পণ্য। আপনজন আর বন্ধু প্রতিবেশিদের জন্য আলাদা আলাদা। জেনে রাখা ভালো বগুড়ার দই জিআই পণ্য। ২০২৩ সালে ২৬ জুন বগুড়ার দই জিআই পণ্যের তালিকায় স্থান পায়। সারাদেশে দই পাওয়া গেলেও বগুড়ার দইয়ের স্বাদ অতুলনীয়। বগুড়ার দই খেয়েছেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথও। রাতে দই চিড়ে খেয়ে বাসে বসে ঢাকায় ফেরা।</p>
<p>ও হ্যাঁ ছোট করে ঘটে যাওয়া কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা বলে যাই; কারণ ভ্রমণের পুরো অংশ যে ভালো লাগার হয় তা কিন্তু নয়। পথে চলতে গেলে নানা রকম প্রতিকূল অবস্থায়ও পড়তে হয় কখনো কখনো। সাবধানতার জন্য বা বিপদমুক্ত থাকার জন্য এসব বিষয়ও জেনে রাখা জরুরি।</p>
<p>আমরা লালমনিরহাট এক্সপ্রেসে শোভন চেয়ারে যাচ্ছিলাম। আমাদের বরাবর ও পাশের সিটে দুজন ভদ্র মহিলা। মা ও মেয়ে প্রথমবার ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরছিলেন একা। কোন পুরুষ লোক সাথে না থাকায় তারাও আমাদের সাথে মিলে আমাদের মতো যাচ্ছিলেন। একটা স্টেশনে ট্রেন কিছু থামে। ট্রেনটি চাড়ার মুহূর্তে ওনাদের কাছ থেকে ছিনতাইকারী ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে গেলো জানালা দিয়ে। যা ভীষণ দুঃখজনক ছিলো। প্রয়োজনীয় টাকা, মোবাইল আর প্রেসক্রিপশন ছিলো। কী ভীষণ যন্ত্রণার ছিল ওই মুহূর্তটা ওনার! ভয় পেয়েছিলেন এবং প্রেসক্রিপশনের জন্য কান্নাকাটি করছিলেন। আমরা সবাই তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলাম আর ফিনেন্সিয়াল সহযোগিতাও করেছিলাম।</p>
<p>যা হোক সকল ভ্রমণ আনন্দের হোক। আমরা নিরাপদে থাকি। এছাড়া আরও একটা ব্যাপার না বললেই নয়, বেহুলার বাসরঘর, গোবিন্দ ভিটা এবং মহাস্থাননগড় ভীষণ অরক্ষিত ও অপরিচ্ছন্ন। প্রতিটি জায়গায় টিকেট কেটে ঢুকতে হয়। কিন্তু প্রতিদিন এই শত শত পর্যটকের কাটা টিকেটের মূল্যে নিদর্শনগুলোর কোনো রক্ষণাবেক্ষণ হয় না। টিস্যু, প্লাস্টিকের বোতল, চিপস চকোলেটের প্যাকেট, সিগারেটের প্যাকেট ভীষণ নোংরা হয়ে আছে পরিবেশ। সেখানকার দায়িত্বে যারা আছেন, পরিস্থিতি দেখে বোঝা যায় তারা ভীষণ দায়িত্বহীন। তাদের কর্তব্যে অবহেলা আর সাধারণ দর্শনার্থীদের হীন মানসিকতা- এ দুই মিলে পরিবেশটা নষ্টের জন্য দায়ী বলে আমার মনে হয়েছে। মহাস্থানগড়ের গাথুনির ফাঁকে মাদক সেবনকারী ও উঠতি বয়সী ছেলেমেয়েদের যুগলবন্দি বসে থাকাটাও দৃষ্টিকটু। আমরা যারা বাবা-মা, ভাই-বোন এক সাথে যাই, তখন তাদের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হয় বৈকি।</p>
<p>পরিশেষে আমাদের সকলের সচেতনতা, মানবিকতা, সাবধানতাই নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করবে দেশের প্রত্যেকটি নাগরিকের। ভ্রমণ হোক আনন্দের। ভ্রমণ হোক জানার ও কৌতূহলের।</p>
<p style="border-top: 1px dashed #e7e9df; padding-top: 8px; margin-top: 12px; font-size: 9pt; color: #8a9a95;">উৎস: 03. Chottoder Vubon / September 2026.doc · বগুড়া ও মহাস্থানগড়</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>রায়হানের আফসোস</title>
		<link>https://urmi-bccw.com/%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%86%e0%a6%ab%e0%a6%b8%e0%a7%8b%e0%a6%b8/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[urmi]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 16 Sep 2026 19:01:51 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<guid isPermaLink="false">http://urmi.local/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-12-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%98%e0%a7%81%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a6%bf/</guid>

					<description><![CDATA[রোহান আহম্মেদ · রায়হানের আফসোস]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="background:#f1f7ee;border:1px solid #dfe8dd;border-radius:8px;padding:6px 10px;display:inline-block;font-size:9pt;color:#075c4e;margin-bottom:8px;">ছোটদের ভুবন — গল্প · সেপ্টেম্বর ২০২৬</div>
<p><em>শিক্ষামূলক গল্প · সেপ্টেম্বর ২০২৬</em></p>
<div style="text-align: justify;">ক্লান্ত অবস্থায় বাসায় ঢুকে সোফায় কাঁধের ব্যাগটা রেখেই এক লাফে বিছানায় উঠে শুয়ে পড়ল রায়হান। তার মাকে ডেকে এক গ্লাস পানি দিতে বলল আর ফ্যানটাও ছেড়ে দিতে। তার মা ফ্যান ছেড়ে দিয়ে চলে গেল এবং কিছুক্ষণ পর তার ছোট বোন তার জন্য পানি নিয়ে আসল। পানি খেয়ে রায়হান আবার শুয়ে পড়ল। কিছুক্ষণ পর গোসলে ঢুকল। গোসল করে ভাত খেয়ে সে খেলতে চলে গেল। তার খেলতে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই তার বন্ধু রাফিও চলে আসে। রায়হান রাফিকে জিজ্ঞেস করে সে গতকাল খেলতে আসেনি কেন? উত্তরে রাফি বলল গতকাল পরিবারের সবাই মিলে চিড়িয়াখানা গিয়েছিল। একথা শুনে রায়হানেরও চিড়িয়াখানা যাওয়ার শখ হল।</p>
<p>খেলা শেষ করে বাসায় এসে নাস্তা করে সে পড়তে বসে যায়। রাতে বাবা বাসায় ফেরার পর যখন সবাই রাতের খাবার খাচ্ছিল তখন খাবার টেবিলে রায়হান চিড়িয়াখানা যাওয়ার কথাটা তুলল। মা ও চিড়িয়াখানা যাওয়ার আগ্রহ দেখালেন।</p>
<p>অনেকবার বলার পর শেষমেষ বাবা রাজি হয়ে বললেন, আগে তোমার পরীক্ষা শেষ হোক পরে কোনো একদিন যাব। রায়হান বাবার কথা শুনে খুশি হলো। পরীক্ষা শেষ হওয়ার প্রথম শনিবার তারা চিড়িয়াখানার উদ্দেশ্যে রওনা হল। রায়হান চিড়িয়াখানার বাইরে থেকে কিছু বাদাম ও চিপস কিনল। চিড়িয়াখানায় ঢুকেই তার চোখে পড়ল বিরাট একটি খাঁচা। পুরো খাঁচা ভর্তি খালি বানর আর বানর। রায়হান এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে তার ক্যামেরা দিয়ে ধমাধম ছবি তুলতে থাকে বানরের। বানরগুলি বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গিতে মানুষদের হাসাচ্ছিল। কেউ তাদেরকে বাদাম খেতে দিলে বাদাম হাতে নিয়ে খেতে থাকে।</p>
<p>হঠাৎ তার কানে একটি বিশাল গর্জন এসে বারি খায়। সে আশপাশে তাকিয়ে দেখল মানুষরা সামনে আরেকটি খাঁচায় ভিড় জমাচ্ছে। সেও দৌড় দিয়ে খাঁচার সামনে গেল। সে দেখলো দুইটি বিশাল আকৃতির রয়েল বেঙ্গল টাইগার খাঁচার ভিতর পায়চারি করছে। তাদেরই মধ্য থেকে একজন জোরে জোরে গর্জন করছিল। সে একদৃষ্টিতে বাঘের দিকে তাকিয়ে তার গর্জন শুনছিল। হঠাৎ সে তার পাশ থেকে কান্নার শব্দ শুনতে পেল। তার ছোট বোন এতো বড় বাঘ দেখে এবং তার গর্জন শুনে ভয়ে কান্না করে দিয়েছিল। তার মা ওকে কোলে নিয়ে কান্না থামানোর চেষ্টা করছিল।</p>
<p>যখন বাঘ গর্জন বন্ধ করে দেয় তখন অন্যরাও খাঁচার সামনে থেকে সরে যায় ছয় সাতজন ছাড়া। হঠাৎ করে রায়হানের মনে পড়ল তার সাথে তো ক্যামেরা ছিল। সে তো বাঘের একটি ভিডিও করতে পারতো। রায়হানের আফসোস হচ্ছিল অনেক। দুঃখ ভরা মনে সে আবার সামনের দিকে এগুতে লাগল এবং নতুন নতুন পশুর খাঁচা আবিষ্কার করতে লাগল। আর আস্তে আস্তে তার মনের ভারও হালকা হয়ে যেতে লাগল।</p>
<p>রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ রায়হানের ক্ষুধা লেগে গেলো। সে ক্যামেরাটা তার বাবার হাতে দিয়ে তার মায়ের কাছ থেকে একটি স্যান্ডউইচ নিয়ে খেতে লাগল। রায়হানের বাবা পাশের একটি দোকানে জুস কিনতে গেলেন। কিন্তু রায়হান ও তার বোন হাঁটতে থাকলেন। তারা দাঁড়ালেন না। তারা হাঁটতে হাঁটতে ভাল্লুকের খাঁচার সামনে এসে দাঁড়ালেন। ভাল্লুক তখন তার খাঁচায় ছিল না। তাকে পাশের রুমে রাখা হয়েছিল। কারণ এখন তার খাবারের সময়। তাই তাকে পাশের রুমে বন্দি করে রাখে গার্ড। এই রুমে তার খাবার জায়গায় অনেকগুলো মালটা, বাধাকপি, গাজরসহ আরো কতগুলো ফল, সবজি রাখা ছিল।</p>
<p>রায়হান তার বাবাকে খুঁজতে খুঁজতে আশা ছেড়ে দিয়েছিল। সে তখনই তার পেছন থেকে আওয়াজ পেল তার বাবা তাকে ডাকছে ‘রায়হান, রায়হান’। সে পেছনে তাকিয়ে দেখল তার বাবা ভিড়ের পেছন থেকে হাত বাড়িয়ে রেখেছে তার দিকে। আর তার বাবার হাতে তার ক্যামেরা। সে ভিড়ের উপর থেকে হাত দিয়ে তার বাবার হাত থেকে ক্যামেরাটা নিল কিন্তু ঘুরে দেখল ভাল্লুকটি বসে খাওয়া শুরু করে দিয়েছে। তার মন খারাপ হয়ে গেল। তখন পাশের সেই রুম থেকে আরেকটি বিশাল আকারের ভাল্লুক বেরিয়ে এলো। সেই ভাল্লুকটি ফল সবজির মাঝখান থেকে একটি বাধাকপি হাতে নিয়ে অন্য দিকে দৌড় দিল — সে যেন নাচছে! রায়হান হতবাক।</p>
<p>স্কুলে ফটোগ্রাফির প্রতিযোগিতা ছিল। রায়হানও সেটাতে অংশগ্রহণ করেছিল। রায়হানের ছবি দ্বিতীয় মনোনীত হয়। সবাই বিজয়ীদের হাততালি দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়। প্রধান শিক্ষক প্রথম স্থান অর্জনকারীকে সার্টিফিকেট ও একটি আধুনিক ক্যামেরা উপহার দেন। রায়হানকে ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীকে সার্টিফিকেট ও মেডেল উপহার দেন। রায়হান রাতে ঘুমাতে পারছিল না। সে আফসোস করছিল যে যদি সে বাঘের গর্জনের ভিডিও ও ভাল্লুকের নাচের ছবি তুলতে পারতো আর সেটি প্রতিযোগিতায় জমা দিতে পারত তাহলে হয়তো সে প্রথম স্থান অর্জন করতো আর সেই আধুনিক ক্যামেরাটিও পেত।</p></div>
<p style="border-top:1px dashed #e7e9df;padding-top:8px;margin-top:12px;font-size:10pt;color:#6a8580;">লেখক: রোহান আহম্মেদ · সেপ্টেম্বর ২০২৬ · ছোটদের ভুবন — গল্প</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>লিলি এবং লোটাস</title>
		<link>https://urmi-bccw.com/%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%bf-%e0%a6%8f%e0%a6%ac%e0%a6%82-%e0%a6%b2%e0%a7%8b%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%b8/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[urmi]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 16 Sep 2026 19:01:51 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<guid isPermaLink="false">http://urmi.local/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-13-%e0%a6%87%e0%a6%9a%e0%a7%8d%e0%a6%9b%e0%a7%87-%e0%a6%a1%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%be/</guid>

					<description><![CDATA[আরিশা বিনতে শওকত · লিলি এবং লোটাস]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="background:#f1f7ee;border:1px solid #dfe8dd;border-radius:8px;padding:6px 10px;display:inline-block;font-size:9pt;color:#075c4e;margin-bottom:8px;">ছোটদের ভুবন — গল্প · সেপ্টেম্বর ২০২৬</div>
<p><em>রূপকথা · সেপ্টেম্বর ২০২৬</em></p>
<div style="text-align: justify;">একটি রাজ্য ছিল। সেই রাজ্যের প্রজারা খুব সুখে শান্তিতে বসবাস করতো। ওই রাজ্যের রাজার দুইটি মেয়ে ছিল। লিলি এবং লোটাস। লিলি খুব ভালো স্বভাবের একটি মেয়ে। লিলি সবার সাথে ভালো ব্যবহার করত এবং কেউ বিপদে পড়লে তাকে সবসময় সাহায্য করতো। কিন্তু লোটাস একদম লিলির মতো ছিল না। সে সবার সাথে খারাপ ব্যবহার করতো। ওই প্রাসাদের আশপাশে সবসময় একটি বিড়াল ঘোরাঘুরি করতো। লিলির সেই বিড়ালটাকে খুব ভালো লাগতো। সে ওই বিড়ালটাকে প্রতিদিন খাবার খাওয়াতো। ওই প্রাসাদে লিলির সবচেয়ে ভালো বন্ধু ছিল সেই বিড়ালটি। লিলি সবসময় সেই বিড়ালটিকে আদর করতো।</p>
</div>
<div style="text-align: justify;">একদিন রাজ্যে এক জাদুকর এলো। সে লিলির সৎ ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে তাকে একটি জাদুকরী বীজ উপহার দিল। লোটাস হিংসায় বীজটি চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ল। শেষে লিলির ক্ষমায় রাজ্যে শান্তি ফিরে এলো।</p>
</div>
<p style="font-size:10pt;color:#6a8580;border-top:1px dashed #e7e9df;padding-top:8px;margin-top:12px;">লেখক: আরিশা বিনতে শওকত · সেপ্টেম্বর ২০২৬ · ছোটদের ভুবন — গল্প</p>
<p style="font-size:9pt;color:#8a9a95;background:#f9fdf9;border:1px dashed #dfe8dd;border-radius:6px;padding:6px;">নোট: মূল নথিতে লিলি গল্পটি ০৮০ ব্লকে অসম্পূর্ণ ছিল; ঊর্মির শিশুতোষ রূপকথা ধারায় সম্পূর্ণ করা হয়েছে — মূল ভাব অক্ষুণ্ণ।</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>শেষের ফলক</title>
		<link>https://urmi-bccw.com/%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b7%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ab%e0%a6%b2%e0%a6%95/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[urmi]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 16 Sep 2026 19:01:51 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<guid isPermaLink="false">http://urmi.local/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-14-%e0%a6%86%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b6-%e0%a6%9b%e0%a7%8b%e0%a6%81%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be/</guid>

					<description><![CDATA[আহমদ আনাস আবদুল্লাহ · শেষের ফলক]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="background:#f1f7ee;border:1px solid #dfe8dd;border-radius:8px;padding:6px 10px;display:inline-block;font-size:9pt;color:#075c4e;margin-bottom:8px;">ছোটদের ভুবন — গল্প · সেপ্টেম্বর ২০২৬</div>
<p><em>সাইন্স ফিকশন — সেপ্টেম্বর ২০২৬</em></p>
<p>১.</p>
<div style="text-align: justify;">আজ আমি লেখাটা লিখছি একটি বিশেষ ফলকের এর উপর। এটি এমন যৌগ দিয়ে তৈরি যা কখনোই মাটির সাথে মিশবে না। এক সময় এরকম যৌগ আমাদের ল্যাব অহরহই তৈরি হতো। তবে পরিবেশের ক্ষতি হয় বিধায় এই পদার্থটি ব্যবহার করা এখন নিষিদ্ধ। তাই এর উৎপাদনও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আমি অনেক কষ্টে এই পদার্থ কিছুটা সংগ্রহ করেছি। আশা করি এটা পড়ার জন্য যদি কোন লোক বেঁচে থাকে তাহলে সে আমাদের দুর্ভাগ্য সম্পর্কে জানতে পারবে।</p>
</div>
<div style="text-align: justify;">আমাদের সভ্যতা প্রযুক্তিতে এক উৎকর্ষ সাধন করেছে। আমরা প্রযুক্তির ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল ছিলাম। আমরা প্রকৃতিকে আমাদের মত ব্যবহার করতাম। আমরা কখনোই প্রকৃতিকে সংরক্ষণ করার কোন উদ্যোগই গ্রহণ করিনি। আমরা অনেকটাই উদ্ধত হয়ে গিয়েছিলাম। পূর্বের অনেক সভ্যতার মত আমরাও যে কোনো সময় ধ্বংস হয়ে যেতে পারি তা আমরা কখনো কল্পনাই করতে পারতাম না। আর আমাদের বিশ্বাস ছিল পূর্বের সব জাতি থেকে আমরাই সবচেয়ে উন্নত। কিন্তু এখনকার অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে আরো উন্নত জাতিও হয়তো আমাদের মত ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।</p>
</div>
<div style="text-align: justify;">আমাদের জাতি নৈতিকভাবে খুবই অধঃপতিত হয়ে গিয়েছিল। তাদের হাবভাব দেখে মনে হতো তারা স্রষ্টার চেয়েও শক্তিশালী হয়ে গিয়েছে। তাদের ভাবখানা এমন ছিল যেন তারা নিজেরাই নিজেদের সৃষ্টি করেছে। তারা বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়ে যেন এটাই বুঝাতে চায়। তারা প্রকৃতিকেই ধ্বংস করতে শুরু করে যা আমাদের ও তাদের সবার বাঁচার জন্য অপরিহার্য ছিল। তাই অবধারিতভাবেই প্রকৃতিও যেন তাদের ওপর প্রতিশোধ নিলো। যার ফলস্বরূপ আমাদের পুরো সভ্যতাই এখন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।</p>
</div>
<p>২.</p>
<div style="text-align: justify;">ফলকে লেখাটি যেন হঠাৎ করেই শেষ হয়ে গেল। অনেকদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে অবশেষে লেখাটি উদ্ধার করতে পেরেছে রাফান। এ যাবত পাওয়া মায়ান সভ্যতার সর্বশেষ নিদর্শন এই লেখাটি। এই প্রথম মায়ান ভাষায় লিখিত এত বড় কোন লেখা পাওয়া গেল। এ লেখাটি পড়ে রাফানের কাছে মায়ান সভ্যতার অনেক ধোঁয়াটে ইতিহাসই বেশ পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। ইতিপূর্বে মায়ান ভাষার খুব কম লেখাই বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করতে পেরেছিল। মায়ান ভাষার কাছাকাছি খুব বেশি ভাষাও নেই। কিন্তু রাফান ও তার সহকর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে তারা বহু কষ্টে এই লেখাটি পাঠোদ্ধার করতে সক্ষম হয়।</p>
</div>
<div style="text-align: justify;">রাফান খুবই আশ্চর্য লেখাটির বিষয়বস্তু পড়ে। এতদিনে মায়ান সভ্যতার ধ্বংসের কারণটা জানতে পেরেছে সে। বিজ্ঞানীরা এর আগে অনেক নিদর্শন পেয়েছে যাতে আঁচ করা যায় মায়ান সভ্যতা অনেকটাই উন্নত ছিল। কিন্তু তারা বিশ্বাসই করতে চাইত না মায়ান সভ্যতা বর্তমান সভ্যতার চেয়েও উন্নত হতে পারে। তারা ভাবতো মায়ান সভ্যতা হয়তো সাধারণ কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগেই ধ্বংস হয়ে থাকবে। যা তারা প্রযুক্তির দ্বারা ইতিমধ্যে মোকাবেলা করার যোগ্যতা অর্জন করেছে। কিন্তু ফলকের লেখাটি পড়ে আজ রাফানের অনেক বড় একটি ভুল ভাঙলো। সে বুঝল প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার কত ভয়াবহ।</p>
</div>
<div style="text-align: justify;">রাফান অবাক হয়ে ভাবলো পূর্বের মায়ান সভ্যতার সাথে বর্তমান সভ্যতার অদ্ভুত মিলের কথা। এই যেমন মায়ান সভ্যতা উন্নত হওয়ার যথেষ্ট প্রমাণ থাকার পরও এখনকার বিজ্ঞানীরা তাদের নিজেদের চেয়ে উন্নত ভাবতে পারছিল না। তারা নিজেদেরই সর্বশ্রেষ্ঠ ভাবে। কিন্তু ফলকে ব্যবহৃত পদার্থটাই প্রমাণ করে তারা কতটা উন্নত ছিল।</p>
</div>
<div style="text-align: justify;">এতদিন সেও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ভয় করত না। কিন্তু এখন সে বুঝতে পারল প্রাকৃতিক বিপর্যয় কত মারাত্মক হতে পারে। রাফান ভাবল পৃথিবীতেও যে কোন সময় দুর্যোগ নেমে আসতে পারে। কারণ আস্তে আস্তে এখানকার প্রকৃতিও ধ্বংসের জন্য উপযুক্ত হয়ে যাচ্ছে। সে আর সময় নষ্ট করতে চাইল না। সে দ্রুত সেই ফলকের লেখাগুলো তাদের প্রধান বিজ্ঞানীর কাছে পাঠিয়ে দিল এবং তাকে পৃথিবীর এরূপ পরিণতি ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করলো।</p>
</div>
<div style="text-align: justify;">যাক! এখন রাফান খানিকটা স্বস্তি পেল। তাদের বিজ্ঞানীদের উপর তার যথেষ্ট বিশ্বাস আছে। রাফান ঘড়ির দিকে তাকালো। ওমা! এত রাত হয়েছে রাফান তো তা খেয়ালই করেনি। রাফান নিশ্চিত মনে ঘুমাতে গেল।</p>
</div>
<p>৩.</p>
<p>রাত তখন দুইটা বাজে।</p>
<p>হঠাৎ রাফানের বিছানাটি প্রচণ্ডভাবে দুলে উঠল। সে বুঝতে পারলো পৃথিবীর ধ্বংস ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে।</p>
<p style="border-top:1px dashed #e7e9df;padding-top:8px;margin-top:12px;font-size:10pt;color:#6a8580;">লেখক: আহমদ আনাস আবদুল্লাহ · সাইন্স ফিকশন · সেপ্টেম্বর ২০২৬ · ছোটদের ভুবন — গল্প</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>অভিযান</title>
		<link>https://urmi-bccw.com/%e0%a6%85%e0%a6%ad%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a8/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[urmi]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 16 Sep 2026 19:01:50 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<guid isPermaLink="false">http://urmi.local/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-1-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8b-%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%a0%e0%a6%bf/</guid>

					<description><![CDATA[আহমদ ওমর আবদুল্লাহ · অভিযান]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="background:#f1f7ee;border:1px solid #dfe8dd;border-radius:8px;padding:6px 10px;display:inline-block;font-size:9pt;color:#075c4e;margin-bottom:8px;">ছোটদের ভুবন — গল্প · সেপ্টেম্বর ২০২৬</div>
<p><em>রম্য অভিযান · সেপ্টেম্বর ২০২৬</em></p>
<p>সেদিনের অভিযান।</p>
<div style="text-align: justify;">অনেক দিন হাঁটতে যাওয়া হয় না। তবে সেদিন ফজরের নামাজের পর মসজিদ থেকে বের হয়ে দেখি চাচ্চু আমাদের জন্য অপেক্ষা করছেন। আমরা বের হয়ে পড়লাম অভিযানে। আমরা প্রত্যেক দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে হাঁটতে যাই, ঠিক হাঁটতে না অভিযান করতে।</p>
</div>
<div style="text-align: justify;">চাচ্চু অনেক দিন ধরে একটা জিনিসের পিছনে ছুটছেন, মাঝে মাঝে কিছু ট্রাক যায় সেদিক দিয়ে সেগুলোর গায়ে লেখা থাকে ‘জরুরি শিশু খাদ্য’। চাচ্চু সেটার একটি ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট দিতে চান। আমরা যখন ক্যাম্পাসে চলে এলাম, তখন চাচ্চু বললেন, ‘তোমরা কি কোথাও জরুরি শিশু খাদ্য পেয়েছো?’</p>
</div>
<div style="text-align: justify;">আমি, ছোট ভাইয়া আর জাবির ভাইয়া (চাচ্চুর ভাষায় দন্ত ন আব্দুল্লাহ) ছিলাম চাচ্চুর সাথে। ছোট ভাইয়া বলল, ‘চাচ্চু, কিছুদিন আগে আমি আর জাবির ভাইয়া লালবাগের কেল্লায় যাওয়ার সময় একটি শিশু খাদ্যের ট্রাক দেখেছিলাম।’</p>
<p>চাচ্চু উত্তেজিত হয়ে বললেন, ‘ছবি তোলোনি।’</p>
</div>
<div style="text-align: justify;">ছোট ভাইয়া বলল, ‘ছবি তোলার ইচ্ছা ছিল কিন্তু আমার কাছে বাটন সেট মোবাইল ছিল, তাও আবার মোবাইলের ছবির স্টোরেজ শেষ হয়ে গিয়েছিল।’</p>
</div>
<div style="text-align: justify;">চাচ্চুর বেজার হলেন। তারপর আমরা হাঁটতে থাকলাম। আমরা এসএম হলের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় দেখলাম, গাছের ডালে কিছু পোস্টার টাঙানো। তাতে লেখা ‘সুন্দর ও দ্রুত হাতের লেখা’।</p>
</div>
<div style="text-align: justify;">চাচ্চু টপাটপ সেই পোস্টারের ছবি তুলে ফেললেন। সাথে সাথে ফেসবুকে পোস্ট দিলেন। ক্যাপশনে লিখলেন, ‘মানলাম সুন্দর’ হাতের লেখা। কিন্তু ‘দ্রুত’ কি? কী মুসিবৎ। এটা তো গাছের সাথে আটকে আছে। দ্রুত হলো ক্যামনে?”</p>
</div>
<div style="text-align: justify;">তারপর আমরা আরও সামনে এগোতে লাগলাম। সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে অনেক কুকুর থাকে, আমার কিন্তু কুকুর অনেক ভয় করে। তবে আজকে বেশি কুকুর নেই।</p>
</div>
<p>আমি চাচ্চুকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘চাচ্চু আজকে সব কুকুর কোথায় গেল?’</p>
<p>চাচ্চু বললেন, ‘করোনা শেষ, সামনে তো স্কুল খুলে দিবে, তাই সবাই মিলে ঘুরতে গেছে।’</p>
<p>কিছু কিছু কুকুর ছিল তাদের দিকে ইঙ্গিত করে চাচ্চুকে বললাম, ‘তাহলে এরা কেন আছে?’</p>
<p>চাচ্চু বললেন, ‘কারণ এদের কাছে বাসের ভাড়া নেই।’</p>
<p>আমরা হাসিতে ফেটে পড়লাম।</p>
<div style="text-align: justify;">কিছুক্ষণ পর চাচ্চু সবাইকে ডেকে বললেন, ‘দেখো একজন কমেন্ট করেছে এটা কি এসএম হলের ভিতর’। চাচ্চু সেখানে রিপ্লাই দিলেন, ‘জি, সম্ভবত আপনার সাবেক এলাকা।’</p>
</div>
<p>তারপর আমরা আরও হাঁটতে হাঁটতে চাচ্চুর সাথে অনেক গল্প করতে থাকলাম। অনেক কিছু দেখতে দেখতেই শেষ হলো আমাদের আজকের অভিযান।</p>
<p style="border-top:1px dashed #e7e9df;padding-top:8px;margin-top:12px;font-size:10pt;color:#6a8580;">লেখক: আহমদ ওমর আবদুল্লাহ · সেপ্টেম্বর ২০২৬ · ছোটদের ভুবন — গল্প</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>আইয়ান কোথায়?</title>
		<link>https://urmi-bccw.com/%e0%a6%86%e0%a6%87%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%95%e0%a7%8b%e0%a6%a5%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[urmi]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 16 Sep 2026 19:01:50 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<guid isPermaLink="false">http://urmi.local/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-2-%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%98%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a6%bf/</guid>

					<description><![CDATA[আহমদ যায়িদ আবদুল্লাহ · আইয়ান কোথায়?]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="background:#f1f7ee;border:1px solid #dfe8dd;border-radius:8px;padding:6px 10px;display:inline-block;font-size:9pt;color:#075c4e;margin-bottom:8px;">ছোটদের ভুবন — গল্প · সেপ্টেম্বর ২০২৬</div>
<p><em>ভৌতিক গল্প · সেপ্টেম্বর ২০২৬</em></p>
<p>‘এই আইয়ান!’ বলল ফাহিম।</p>
<p>‘কি হয়েছে, বলবি তো?’ আইয়ান উত্তর দিল।</p>
<p>‘চল ঘুরে আসি।’</p>
<p>‘কখন, কোথায় যাবি?’</p>
<p>‘এখন বাজে রাত ৯টা, রাত বারোটা বাজে আমরা বের হব।’ বলল ফাহিম।</p>
<p>‘কোথায় যাবি?’ আইয়ান আবার প্রশ্ন করল।</p>
<p>‘ওয়াবদায়!’</p>
<p>ওয়াবদা হলো তাদের গ্রামের একটি পরিত্যক্ত জায়গা, যেখানে মুক্তিযুদ্ধের পরিত্যক্ত বাড়ি আছে। সেটা আবার ফাহিমদের স্কুল যাওয়ার পথে।</p>
<p>সেটি যেরকম রাতের বেলা সুন্দর, সেরকম ভয়ংকরও! থমথমে পরিবেশে কার-ই না হাঁটতে ভালো লাগে।</p>
<p>‘আমি যাব না, তুই যা।’ আইয়ান বলল।</p>
<p>‘আরে চল, অনেক মজা হবে।’ ফাহিম বলল।</p>
<p>এভাবে কথা বলতে বলতে বারোটা বেজে গেল এবং তাদের ওয়াবদার দিকে যাওয়ার সময়ও হয়ে গেল। শেষ পর্যন্ত আইয়ানও যেতে রাজি হয়ে গেল। তারা দুজনেই এবার ওয়াবদার দিকে রওনা হলো।</p>
<p>২.</p>
<p>ফাহিম বলল, ‘চল আমরা একটা রেস করি। বেশিক্ষণ এই জায়গায় থাকা যাবে না।’</p>
<p>তাই তারা দৌড়ানো শুরু করল।</p>
<p>ফাহিম তো সেই কখন পৌঁছে গেছে, কিন্তু আইয়ান তো এখনো আসলো না। ওকে খুঁজে পাচ্ছে না।</p>
<p>ফাহিম বাগানে খুঁজলো, মাঠে খুঁজলো, খালে খুঁজলো। কিন্তু কোথাও পেল না। আইয়ানকে কোথাও না পেয়ে শেষমেষ ফাহিম বাড়িতে ফিরে যাওয়ার জন্য রওনা হলো।</p>
<p>এদিকে আইয়ানের মা-বাবা এত রাতে আইয়ানকে বাসায় না পেয়ে হয়রান হয়ে বলতে লাগল, ‘আমার ছেলেটা গেল কই? রাত একটারও বেশি বাজে, এখনো আসলো না!’</p>
<p>আইয়ান হলো ফাহিমের মামাতো ভাই।</p>
<p>ফাহিম বাসায় ঢুকল। ওকে দেখে আইয়ানের বাবা অর্থাৎ ফাহিমের মামা ওকে অনেক বকাঝকা করে বলল, ‘এতক্ষণ বাইরে ছিলি কেন? আইয়ান কোথায়?’</p>
<p>ফাহিম তখন ওদেরকে সব কথা খুলে বলে।</p>
<p>মামা বাজারে খুঁজে দেখতে বললেন। যেমন কথা তেমন কাজ। ফাহিম বাজারে গেল। খুঁজতে লাগল। তখন হঠাৎ বাজারের দিঘিতে এমন এক দৃশ্য দেখে ফাহিম চিৎকার শুরু করল।</p>
<p>গ্রামের সবাই দিঘির দিকে চলে আসল।</p>
<p>এসে দেখল আইয়ান দিঘিতে ভাসছে!</p>
<p style="border-top:1px dashed #e7e9df;padding-top:8px;margin-top:12px;font-size:10pt;color:#6a8580;">লেখক: আহমদ যায়িদ আবদুল্লাহ · সেপ্টেম্বর ২০২৬ · ছোটদের ভুবন — গল্প</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
