﻿<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>গল্প &#8211; ঊর্মি</title>
	<atom:link href="https://urmi-bccw.com/category/sahitto/golpo-sahitto/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://urmi-bccw.com</link>
	<description>মাসিক শিশুতোষ সাহিত্য পত্রিকা</description>
	<lastBuildDate>Mon, 05 Oct 2026 06:13:56 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=7.1.3</generator>

<image>
	<url>https://urmi-bccw.com/wp-content/uploads/site-icon-temp-512-150x150.jpg</url>
	<title>গল্প &#8211; ঊর্মি</title>
	<link>https://urmi-bccw.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>মুরগী ছানা</title>
		<link>https://urmi-bccw.com/%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%97%e0%a7%80-%e0%a6%9b%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%be/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[urmi]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 17 Sep 2026 18:24:20 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<guid isPermaLink="false">http://urmi.local/?p=231</guid>

					<description><![CDATA[তামান্না চৌধুরী]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="background:#f1f7ee;border:1px solid #dfe8dd;border-radius:8px;padding:6px 10px;display:inline-block;font-size:9pt;color:#075c4e;margin-bottom:10px;">সাহিত্য — গল্প · সেপ্টেম্বর ২০২৬</div>
<h3 style="font-family:'Noto Serif Bengali',serif;color:#075c4e;font-size:15pt;margin:0 0 4px;">মুরগী ছানা</h3>
<p style="font-size:10pt;color:#6a8580;margin:0 0 10px;">— তামান্না চৌধুরী</p>
<div style="text-align: justify;">লায়লার মা খুব শখ করে একটা মুরগী পালতেন। চোখে চোখে রাখতেন সেই মুরগীটাকে। মুরগীটা যখন ডিম পাড়া শুরু করল তখন লায়লাদের দু’বোনের খুশীর সীমা ছিল না। ওরা যখন- ডিমভাজি খেতে পারতো। বিদঘুটে, স্বাদহীন ঝোল দিয়ে ভাত আরখেতে হত না। তবে তারা দুইবোন মাকে কখনো সেই ডিম খেতে দেখেনি। একদিন তাদের মা অনেকগুলো ডিমে মুরগীটাকে বসিয়ে দিয়ে বললেন, এর থেকে না-কি বাচ্চা ফুটবে। শুনে  দুই বোনের কৌতুহলের যেন শেষ নেই। ওরা চাপা আনন্দ নিয়ে অপেক্ষা করতে লাগলো।</p>
<p>সত্যি সত্যি একদিন ডিম থেকে ছানাগুলো বের হয়ে এলো। কি সুন্দর দেখতে! এতো নরম, তুলতুলে! দেখেই কতো আদর করতে ইচ্ছে করে। লায়লা আর তার বোন সায়লা বাচ্চাগুলোকে চাল দিতো। ওদের সমস্ত অনুভূতি ছিল সেই মুরগীর বাচ্চাগুলোকে ঘিরে। উঠানের পাশেই পাশের বাড়ির ওরা শিম গাছ লাগিয়েছে। প্রায় সেখানে ওদের মুরগী ছুটে যায়। কি জানি কুটকুট করে খায়। সে জন্য একদিন পাশের বাড়ির চাচা লাঠি দিয়ে মুরগীর পায়ে আঘাত করলেন। এরপর থেকে মুরগীটা খুড়িয়ে খুড়িয়ে হাঁটত। শেষ কয়েকদিন আর দাঁড়াতে পারেনি। মুরগীটা মারা গেল। ওর মৃত্যুর পর বাচ্চাগুলোও কেমন করে জানি একটা একটা করে হারিয়ে গেল। হয়তো কোনো পাখি নিয়েছে, কোনোটি আবার বিড়াল মেরে ফেলেছে।</p>
<p>লায়লা আর শায়লা মা’কে জিজ্ঞেস করলো, মা কেন ওরা মারা যাচ্ছে? মা বললেন, “মা ছাড়া সন্তানরা বাঁচে না রে মা! বাঁচলেও সেই বাঁচাটা বাঁচার মতো হয় না। মা মানেই যে ছায়া। ছায়া ছাড়া দেহ হয় না। ছায়া সরে গেলে দেহের অস্তিত্মত্বও থাকে না।”</p>
<p>মুরগী ও তার বাচ্চাগুলো মারা যাওয়ার পর মা খুব কেঁদেছিলেন। তখন ওদেরও বড্ড খারাপ লেগেছিল। এরপর মা কখনোই আর কিছু পালেননি।■</p></div>
<p style="border-top:1px dashed #e7e9df;padding-top:8px;margin-top:12px;font-size:9pt;color:#8a9a95;">উৎস: 04. Sahitto / Story September 2026.doc · মুরগী ছানা</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>সামাজিকতা</title>
		<link>https://urmi-bccw.com/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%a4%e0%a6%be/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[urmi]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 16 Sep 2026 19:01:52 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[নির্বাচিত লেখা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">http://urmi.local/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%aa%e0%a7%8b%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%9f-3/</guid>

					<description><![CDATA[সাহিত্য — গল্প · সেপ্টেম্বর ২০২৬ সামাজিকতা — শিমু বেগম আমার যত কাগজপত্র, চিঠি, দাওয়াতনামা,...]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="background:#eef6fb;border:1px solid #d0e6f2;border-radius:8px;padding:6px 10px;display:inline-block;font-size:9pt;color:#0a4a6b;margin-bottom:10px;">সাহিত্য — গল্প · সেপ্টেম্বর ২০২৬</div>
<h3 style="font-family:'Noto Serif Bengali',serif;color:#075c4e;font-size:15pt;margin:0 0 4px;">সামাজিকতা</h3>
<p style="font-size:10pt;color:#6a8580;margin:0 0 10px;">— শিমু বেগম</p>
<div style="text-align: justify;">আমার যত কাগজপত্র, চিঠি, দাওয়াতনামা, সই করে কাগজ নেওয়া— সব কাজ আমার ছোট ছেলে রেজা খুব আগ্রহ নিয়ে করে। আর সব কাগজপত্র সুন্দর করে গুছিয়ে টেবিলে রাখে। বাসায় ফেরার সাথে সাথে চিঠি, কাগজপত্র ও পানি এনে দেয়। ওর অনেকগুলো ভালো অভ্যাসের মধ্যে এটা একটা ভাল অভ্যাস।</p>
</div>
<div style="text-align: justify;">সে দিন বাসায় ফেরার সাথে সাথেই বলল, ‘মা আজ একটা পিকুলিয়ার ইনভাইটেশন আসল। বলেই জিজ্ঞেস করল মা পিকুলিয়ার মানে অদ্ভুত তাই না?’ আমি পানি খেতে খেতেই মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ সূচক উত্তর দিলাম। সাথে সাথে একটা ইনভাইটেশন কার্ড বের করে দিয়ে বলল, ‘মা প্যাট হাউজের মনি আন্টি দাওয়াত করেছেন তার বিড়ালগুলোর জন্মদিন আগামী শনিবার।’ উত্তরে আমি বললাম, ‘ঐ আধ পাগলের কোনো কাজ নেই, তাই মাঝে মাঝে পাগলামিটা বাড়ে।’</p>
</div>
<div style="text-align: justify;">শনিবার মনি ফোন দিল মনে করিয়ে দেয়ার জন্য যে তার বিড়ালের আজ জন্মদিন। যেন মিস না করি। উবারে করে বিকেলে রেজাকে নিয়ে রওনা হলাম চিড়িয়াখানা রোড মিরপুরে প্যাট আপেট ক্যাফেতে। এখানে সবাই পোষা পশু পাখি নিয়ে আসে।</p>
</div>
<div style="text-align: justify;">বাহ! কি সুন্দর ক্যাফে বলল রেজা। দেয়ালে কুকুরের পায়ের ছাপ, বিড়াল, বিড়ালের লেজ, খরগোশ ইত্যাদি আঁকা। পরিচ্ছন্ন, আকর্ষণীয়। আধঘন্টা সব দিক ঘুরে এসে রেজা বলল মা এখানে সবাই মনি আন্টির মতো পুরো পাগল। কিছু না বলে কানটা ধরে টান দিলাম। চুপ কর, কথা কম।</p>
</div>
<div style="text-align: justify;">যথারীতি কেক কাটা হল, সবাইকে দেয়া হল আমার ভাগের কেকটা রেজাকে দিয়ে দিলাম। রেজা খেতে খেতে বলল, ‘মা ব্ল্যাক ফরেস্ট, মজা নয়। আচ্ছা মা ওরা বলছে বিড়ালটাকেও কেক খেতে দিবে।’ বললাম ‘হু।’ ‘মা বিড়ালরা কিভাবে খাবে? চামচ কাটা দিয়ে, নাকি সব বিড়ালের সামনে রেখে দিবে ওরা মারামারি, কাড়াকাড়ি করে খাবে?’ খুব আগ্রহ নিয়ে বিড়ালের কেক খাওয়া দেখল রেজা।</p>
</div>
<div style="text-align: justify;">বাসায় ফেরার পথে শুধু ভাবতে লাগলাম গতরাতে আমার বাসার সাহায্যকারী মহিলা রেবা তার মেয়ে অসুস্থ পাঁচদিন ধরে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি তাকেও দু’হাজার টাকা দিলাম। আর এখানেও সামাজিকতা রক্ষা করতে দু&#8217;হাজার টাকা দিলাম। কি অদ্ভুত সামাজিক পরিস্থিতির শিকার আমরা মানুষ।</p>
</div>
<p style="border-top:1px dashed #e7e9df;padding-top:8px;margin-top:12px;font-size:9pt;color:#8a9a95;">উৎস: 04. Sahitto / Story September 2026.doc · সামাজিকতা</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>ফিজিক্সের মজা</title>
		<link>https://urmi-bccw.com/%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%9c%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%9c%e0%a6%be/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[urmi]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 16 Sep 2026 19:01:52 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<guid isPermaLink="false">http://urmi.local/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%aa%e0%a7%8b%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%9f-1/</guid>

					<description><![CDATA[সাহিত্য — গল্প · সেপ্টেম্বর ২০২৬ ফিজিক্সের মজা — রিফাহ রায়হানা এয়ারপোর্ট হতে বেরিয়ে আসছেন...]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="background: #f1f7ee; border: 1px solid #dfe8dd; border-radius: 8px; padding: 6px 10px; display: inline-block; font-size: 9pt; color: #075c4e; margin-bottom: 10px;">সাহিত্য — গল্প · সেপ্টেম্বর ২০২৬</div>
<h3 style="font-family: 'Noto Serif Bengali',serif; color: #075c4e; font-size: 15pt; margin: 0 0 4px;">ফিজিক্সের মজা</h3>
<p style="font-size: 10pt; color: #6a8580; margin: 0 0 10px;">— রিফাহ রায়হানা</p>
<div style="text-align: justify;">এয়ারপোর্ট হতে বেরিয়ে আসছেন বৃদ্ধ ব্যাংকার মোহাম্মদ আহসান। তিনি আজ প্রায় তিরিশ বছর পর দেশে ফিরছেন। নাতি-নাতনিদের বড়ো অংশই বাংলাদেশে থাকে। ওরা কেউ না কেউ বছরান্তে দাদুর সাথে দেখা করে আসে। এবার দাদু নিজেই চলে আসছেন বলে ওদের খুশি দেখে কে! রুহি, জিম, জারা, আশফাক, সাজিদ আর ওসমান— সবকুলের নাতি-নাতনিরা। সবাই দল বেঁধে এয়ারপোর্টে আসতে চাইছিল; বড়দের চোখ রাঙানিতে সংখ্যাটা দুজনে এসে থামল। সবচেয়ে বড় রুহি আর সবচেয়ে ছোট ওসমান আসে।</p>
</div>
<div style="text-align: justify;">পরিকল্পনা অনুযায়ী পাঁচ ফিট সাড়ে পাঁচ ইঞ্চি রুহির সাথে তিন ফুট সাড়ে তিন ইঞ্চি ওসমানকে সামনে দাঁড় করানো হয়েছে যাতে ওদেরকে সবার আগে দেখেন আহসান সাহেব।</div>
<div style="text-align: justify;">রুহি বার বার ঘড়ির দিকে আর গেটের দিকে তাকাচ্ছে। “দাদুটা কই গেল? আসছে না কেন এখনো?” তখনই দাদুকে বেরিয়ে আসতে দেখা গেল। একটা ট্রলি ঠেলতে ঠেলতে বেরুচ্ছেন। আর চারপাশে ঔৎসুক্যে তাকাচ্ছেন। স্বজনরা যে কোথায় গেল? তার দেহভঙ্গির ভাষা যেন এটাই। রুহি বুঝে ফেলল তার এ দেহভঙ্গির ভাষাটা।</div>
<div style="text-align: justify;">“দাদু, আসসালামু আলাইকুম।” চিৎকার দিয়ে বলল রুহি। আহসান সাহেবও ডাক শুনতে পেয়েছেন। তিনি দ্রুত রুহিদের দিকে আসতে চাইলেন। লম্বু রুহি আর পুচকে ওসমানকে দেখে খুশি হলেন খুব। ওদের দিকে দৌড়ে আসতে চাইলেন; কিন্তু আর্থ্রাইটিসের ব্যথা আর ট্রলিটা বাধা দিল।</div>
<div style="text-align: justify;">“দাদু! সোনা দাদু আমার!” আদুরে সুরে বললো রুহি। “তুমি জানো না এভাবে ট্রলি ঠেললে তোমার কষ্ট বেশি হয়?”</div>
<div style="text-align: justify;">—কেন আপু? কী করেছি? মিষ্টি হেসে জিজ্ঞেস করলেন তিনি।</div>
<div style="text-align: justify;">—কারণ ফিজিক্স বলে, কোনো কিছু তুমি ঠেললে তোমার যে পরিমাণ বল লাগবে, তা যদি তুমি টানো তবে তোমার বল কম লাগবে।</div>
<div style="text-align: justify;">—তাই নাকি রে! কেন এমন হয়? আগ্রহ নিয়ে জানতে চান দাদু।</div>
<div style="text-align: justify;">—তুমি তো ট্রলিটা এতক্ষণ ঠেলেছ। এবার টেনে আনো তো। তারপর বলছি।</div>
<div style="text-align: justify;">—হাঁ টানছি। আরে! সত্যিই তো টানার বেলায় সহজেই নিয়ে আসা যাচ্ছে।</div>
<div style="text-align: justify;">—হাঁ দাদু, এর কারণ হলো কোনো কিছু টানা বা ঠেলার জন্য তুমি যে বল প্রয়োগ করো তা দু অংশে ভাগ হয়ে যায়। একটা সামনের দিকে লম্বভাবে আরেকটা উপর বা নিচের দিকে। রুহি বলতে থাকল— যখন আমরা ঠেলি তখন সামনের বলটা ছাড়া অপর লম্ব বলটা নিচের দিকে কাজ করে। ফলে বস্তুটির ওজনের সাথে আর একটা অংশ যোগ হয়। এতে বস্তুটির ওজন বেড়ে যায়। তাই ঠেলতে কষ্ট হয়।</div>
<div style="text-align: justify;">পুচকে ওসমান তখন বলে ওঠে, “রুহি আপু, আর আমরা যখন টানি তখন ওজন থেকে সে বলটা বিয়োগ হয় তাই না?” সবাই অবাক চোখে ওসমানের দিকে তাকায়। রুহি পিঠ চাপড়ে দিয়ে বলে, “মাশাআল্লাহ, তুমি তো বেশ বুদ্ধিমান! ঠিক তাই। এ কারণেই টানলে ওজন কম মনে হয় আর কাজটা সহজ হয়।”</div>
<div style="text-align: justify;">—কী মজা আমি পেরেছি। এই বলে ওসমান হাততালি দেয়। তারপর ডাকে বাবাকে। “এখন আর ঠেলে ঠেলে আমাকে গোসল করাতে বাথরুমে ঢোকাবে না। টেনে টেনে ঢোকাবে। তোমার কষ্ট কম হবে, কেমন?” ওসমানের বলার ভঙ্গিতে অন্যরা না হেসে পারলো না।</div>
<p style="border-top: 1px dashed #e7e9df; padding-top: 8px; margin-top: 12px; font-size: 9pt; color: #8a9a95;">উৎস: 04. Sahitto / Story September 2026.doc · ফিজিক্সের মজা</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>ভূতের গলির ভূত</title>
		<link>https://urmi-bccw.com/%e0%a6%ad%e0%a7%82%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a7%82%e0%a6%a4/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[urmi]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 16 Sep 2026 19:01:52 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<guid isPermaLink="false">http://urmi.local/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%aa%e0%a7%8b%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%9f-2/</guid>

					<description><![CDATA[সাহিত্য — গল্প · সেপ্টেম্বর ২০২৬ ভূতের গলির ভূত — শিবুকান্তি দাশ মনির এবার এসএসসি...]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="background:#fff7e6;border:1px solid #f0d9a0;border-radius:8px;padding:6px 10px;display:inline-block;font-size:9pt;color:#6a4a2b;margin-bottom:10px;">সাহিত্য — গল্প · সেপ্টেম্বর ২০২৬</div>
<h3 style="font-family:'Noto Serif Bengali',serif;color:#075c4e;font-size:15pt;margin:0 0 4px;">ভূতের গলির ভূত</h3>
<p style="font-size:10pt;color:#6a8580;margin:0 0 10px;">— শিবুকান্তি দাশ</p>
<div style="text-align: justify;">মনির এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। রেজাল্ট বেরুবে দুই মাস পর। এ সময় কি করবে সে। সারাদিন ফেসবুক দেখে কি সময় কাটানো যায়। মনির বই পড়তে ভালোবাসে। সে দূরে কোথাও গেলে সাথে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিভূতিভূষণ, শরৎচন্দ্র বা নজরুলের বই সঙ্গী করে। সাম্প্রতিক কালে টিভিতে হুমায়ুন আহমেদের নাটক দেখে উনারও ভক্ত হয়ে গেছে। হঠাৎ সেদিন ছোট চাচা ডাকতে ডাকতে পড়ার ঘরে গিয়ে দেখে মনির হুমায়ূন আজাদের ‘ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল’ বইটি পড়ছিল। চাচাও অবাক। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। ছুটিতে বাড়ি আসছেন। উনার নাম সবুজ। সবুজ চাচা মনিরকে খুব ভালোবাসে।</div>
<div style="text-align: justify;">দুজনের বয়সের ব্যবধান চার বছরের। তবু চাচা মনির সাথে অনেক কথা শেয়ার করে। ঢাকার অনেক গল্প করে মনিরের কাছে। বলল জানিস, সেদিন ভূতের গলিতে গিয়েছিলাম।</div>
<div style="text-align: justify;">ভূতের গলি? ঢাকায় ভূতের গলিও আছে? বলেন কি।</div>
<div style="text-align: justify;">—হ্যাঁ রে। ভূতের গলি। আমিও প্রথমে বিশ্বাস করিনি। কিন্তু সত্যি সত্যি ভূতের গলি যে আছে রে ভাতিজা। তুই কখনো ঢাকায় গেলে তোকেও নিয়ে যাবো। না না বাবা। আমার ভূতের গলিতে যাওয়ার দরকার নেই। ভূত যে কখন ঘাড় মটকে দেয় তার কোন গ্যারান্টি আছে।</div>
<div style="text-align: justify;">—মনিরের কথায় সবুজ চাচা হেসেই খুন। আরে বোকা ভূত কোন কালে থাকলেও এখন আর নেই। আমি দুই বছর থেকে ঐ গলিতে যাওয়া আসা করি। ওদিকে আমার এক বন্ধুর বাসা। কখনও ঐ বন্ধুর বাসায় যেতে হলে ভূতের গলি হয়ে যেতে হয়।</div>
<div style="text-align: justify;">—বাহ বাহ। তোমার তো সাহস আছে বটে।</div>
<div style="text-align: justify;">—কেন রে। এটা এমন কি সাহসের হলো। কত মানুষই তো সেখানে বাস করে, কেউ বা ব্যবসা বাণিজ্য করে। কই কখনো তো ভূতের খারাপ কিছু শুনিনি।</div>
<div style="text-align: justify;">—ভূত দেখেছে এমন কাউকে কি পেয়েছো চাচা। যিনি ভূতের সাথে দেখা হয়েছে, ভূত তাকে গাছের আগায় নিয়ে তুলে রেখেছে বা পুকুরের মাঝখানে নিয়ে ভাসিয়ে দিয়েছে।</div>
<div style="text-align: justify;">—হা হা হা করে চাচা এক গাল হাসি হেসে মনিরকে জড়িয়ে ধরে বলল, ওখানে দিনে রাতে শত শত মানুষ নানা কাজে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ভূত আসবে কি ভাবে?</div>
<div style="text-align: justify;">—আসবে আসবে। ভূতের আগুন চোখ দেখেছো চাচা? টিভিতে এক নাটকে দেখেছি অন্ধকার রাতে শশ্মান ঘাটে অনেক ভূত। কোনোটা লুলা, কোনোটা খোঁড়া, কোনটার আবার মাথা নেই।</p>
</div>
<div style="text-align: justify;">—ভূত তো অনেক রকম রয়েছে। মামদো ভূত, মেছোভূত, রামভূত, শশ্মান ভূত আর কত কি। চাচা তুমি ভূতের গল্প পড়োনি। পৃথিবীতে নাকি ভূত বলে কিছু নেই।</div>
<div style="text-align: justify;">—চাচা কিছুটা অবাক হয়ে মনিরের দিকে তাকিয়ে আছে।</div>
<div style="text-align: justify;">—এই মনির হঠাৎ কি হলো রে তোর। বল না কি হয়েছে। তোর চোখেও পানি।</div>
<div style="text-align: justify;">—কামাল মামা ম-রে গেছে বলে হাউ মাউ করে কান্নায় ভেঙে পড়ে। চাচা তো ঠান্ডা হয়ে গেলো। মনিরের মা পাশের ঘর থেকে দৌড়ে এলেন।</div>
<div style="text-align: justify;">—চাচার মুখ দিয়েও কোন কথা সরছে না। চুপচাপ তাকিয়ে আছে মনিরের দিকে। আর মনে মনে ভাবছে তাহলে ভূতের গলিতে যে দেখা হলো সেই কামালটা কে? নাকি ভূত হয়ে কামালের বেশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পৃথিবীতে তো তাহলে সত্যিই ভূত আছে।</div>
<p style="border-top:1px dashed #e7e9df;padding-top:8px;margin-top:12px;font-size:9pt;color:#8a9a95;">উৎস: 04. Sahitto / Story September 2026.doc · ভূতের গলির ভূত (সংক্ষেপিত)</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>টিফিন</title>
		<link>https://urmi-bccw.com/%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%a8/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[urmi]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 16 Sep 2026 19:01:50 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<guid isPermaLink="false">http://urmi.local/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-5-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b8/</guid>

					<description><![CDATA[সাহিত্য — গল্প · সেপ্টেম্বর ২০২৬ টিফিন — তায়েবা তানহা ইশ&#8230; আজ স্কুলে যেতে দেরি...]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="background: #f1f7ee; border: 1px solid #dfe8dd; border-radius: 8px; padding: 6px 10px; display: inline-block; font-size: 9pt; color: #075c4e; margin-bottom: 10px;">সাহিত্য — গল্প · সেপ্টেম্বর ২০২৬</div>
<h3 style="font-family: 'Noto Serif Bengali',serif; color: #075c4e; font-size: 15pt; margin: 0 0 4px;">টিফিন</h3>
<p style="font-size: 10pt; color: #6a8580; margin: 0 0 10px;">— তায়েবা তানহা</p>
<div style="text-align: justify;">ইশ&#8230; আজ স্কুলে যেতে দেরি হয়ে গেল। আর তাইতো এই কাঠফাঁটা রোদে মাঠে লেট লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। আজ রবিবার। রবিবার এলে ভীষণ ভয়ে থাকি। কেননা, ঢাকা শহর মানেই জ্যাম আর যদি রবিবার হয় তবে ধরেই নিতে হবে যে গন্তব্যে আর যাওয়া হচ্ছে না নির্দিষ্ট সময়ে।</p>
</div>
<div style="text-align: justify;">মন খারাপ আর ভয়ে আমি তো অস্থির। আমাদের নতুন প্রধান শিক্ষিকা এসেছেন। বেশ কড়া। তাঁর নতুন নিয়ম যারা যারা দেরিতে আসবে তাদের নাকি মাঠের মধ্যে লেট লাইনে সারি হয়ে দাঁড়াতে হবে। আমরা শুনেছি বড় ম্যাম নাকি শাস্তি-তাস্তিও দেয়। বাবা&#8230; আমার ভয়েই পা কাঁপছে। আসলে স্কুলে আসতে কখনও দেরি হয় না। সব সময়ই আগে এসে স্কুলে উপস্থিত হই। কিন্তু আজ কি যে হলো! বাসা থেকে বেরোতেই দেরি হয়ে গেছে। যাই হোক, বড় ম্যাম মাঠে উপস্থিত হয়ে আমাদের দিকে রাগান্বিত চোখে তাকিয়ে আছেন। বড় ম্যামকে দেখে আমি সালাম দিলাম। তিনি সালামের উত্তর না দিয়েই বলল, সালাম দেয়া হচ্ছে, স্কুলে দেরি করে আসা কত বড় অপরাধ তা জানো? আমার তো ভয়ে পা অবশ হয়ে গেছে। আমি সোজা মাটির দিকে মাথা নিচু করে তাকিয়ে আছি। হঠাৎ তিনি বলে উঠলেন দেরি করে এসেছ কেন? নিচ থেকে চোখ উঠিয়ে আড়চোখে ম্যাম এর মুখের দিকে তাকিয়ে দেখি তিনি আমাকেই জিজ্ঞেস করছেন। না, না, মা, মা মানে আসলে হয়েছিলো কি? জ, জ, জ্যামে প, পড়েছিলাম। বড় ম্যাম ধমকের সুরে বলে, শাস্তি পেতে হবে সকলকে। আমার তো এবার মরার উপক্রম। ম্যাম বলে উঠল, মাঠ— এ মাঠ পরিষ্কার করতে হবে তোমাদের। একটা ময়লা যদি থাকে মাঠে তবে তোমাদের খবর আছে। আমি তো শাস্তির ধরন শুনে হাফ ছেড়ে বাঁচলাম। আমি তো ভেবেই নিয়েছিলাম নিশ্চয়ই শাস্তি হিসেবে ম্যাম নীল ডাউন না হয় মুরগি বানিয়ে রাখবে। যাগগে, একটা করে ঝুড়ি নিয়ে সকলে ময়লা পরিষ্কারের কাজ শেষ করে ক্লাস রুমে গেলাম। ক্লাসে শারমিন ম্যাম। বাংলা পড়াচ্ছেন। আমাকে দেখে কিছু না জিজ্ঞেস করেই তিনি ক্লাসের ভেতরে ঢোকার অনুমতি দেন। ক্লাসে ঢুকে দেখি সামনের সকল বেঞ্চ ভরা। এখন পেছনেই বসতে হবে। হঠাৎ পেছনের আগের বেঞ্চে দেখি একটা মেয়ে বসে আছে। মেয়েটার নাম ঠিক জানি না। এ বছরই নতুন ভর্তি হয়েছে। বেশ চুপচাপ আমাদের কারো সাথে কথা বলে না। আমি বেঞ্চে পাশে গিয়ে মেয়েটাকে বলি, আমি কি এখানে বসতে পারি? মেয়েটি সরে জায়গা দিয়ে বলল, অবশ্যই। আমি বেঞ্চে বসে ব্যাগটা পাশে রেখে বাংলা বইটা বের করে বলি, আচ্ছা তোমার নাম কি?</p>
</div>
<p>-মিথিলা।</p>
<p>—ও আচ্ছা, তোমার নাম কি? মেয়েটা পাল্টা জিজ্ঞেস করে।</p>
<p>—ইমি।</p>
<div style="text-align: justify;">ঘন্টা পড়ল। ম্যাম ক্লাস থেকে বের হতেই ওকে জিজ্ঞেস করি তোমার মায়ের নাম কি, বাবার নাম কি, তারা কি করে, আগে কোন স্কুলে পড়তে। মিথিলাও হাসি মুখে উত্তর দেয়, আমার মায়ের নাম সুরাইয়া, বাবার আশরাফুল ইসলাম। তিনি ব্যাংকে চাকরি করেন। আমি আগে মিরপুরে থাকতাম। সেখানকার একটি প্রাইভেট স্কুলে পড়তাম।</p>
</div>
<p>—ও, ভালো।</p>
<p>আড্ডা আলোচনায় বেশ জমে উঠেছে আমার আর ও কথোপকথন। ওর সাথে কথা বলতে পেরে বুঝলাম যে মেয়েটা ভারি মিশুক ও খুব বাচাল। কেননা অনেক কথা বলে। ওর কথাগুলো খুব মজার, শুনলেই হাসি পায়। সব সময় হাসি মুখে কথা বলেই চলে।</p>
<p>—আচ্ছা তুমি এতদিন আমাদের সাথে কথা বলতে না কেন?</p>
<p>—আসলে, নতুন তো তোমাদের সাথে কথা বলতে সাহস হয়নি। কে কি মনে করে কে জানে। মিথিলা উত্তর দেয়।</p>
<p>—তা ঠিক।</p>
<div style="text-align: justify;">আমার আর ওর বন্ধুত্ব বেশ জমে উঠেছে। আমরা একে অপরের খুব ভালো বন্ধু। এক সাথে বসে খুব মজা করি। আসলে আমরা দুইজনই বাচাল তো তাই আমাদের বেশ জমে। আমরা সব সময় এক সাথে টিফিন করি। আগে কখনও এভাবে কারো সাথে আমি টিফিন ভাগাভাগি করে খাইনি। বেশ ভালো টিফিন আনে মিথিলা রোজ। কোনো দিন বিরিয়ানি তো কোনোদিন ফ্রেঞ্চ ফ্রাই আবার কোনোদিন ফ্রাইড রাইস। ওর টিফিনগুলো খেতেও বেশ মজা। কিন্তু আমার তেমন রকমারি টিফিন আনা হয় না। আসলে ছোট ভাই-বোন ও সংসারের চাপে আমাকে এসব রকমারি টিফিন দিতে পারে না বলে প্রতিদিন ভাজি রুটি আর রুটি ডিম দেয়। আমিও স্বাচ্ছন্দ্যে খেয়ে নেই। কিন্তু সমস্যা হলো মিথিলার আমার টিফিনগুলো পছন্দ হয় না। ফলে ও আমার টিফিন খায় না। এতে কোনো সমস্যা না থাকলেও বেশ কিছু দিন যাবত লক্ষ্য করছি ও আমায় নানারকম কথা শোনায়। যেমন : কি এনেছিস? একই টিফিন বারবার আনে কেউ। তোর টিফিনগুলো দেখতে কেমন, আমার টিফিনগুলো দেখ কত সুন্দর। ইত্যাদি। নানা কথা। প্রথম দিকে হাসি দিয়ে উড়িয়ে দিলেও এখন আমাদের মধ্যে টিফিন খাওয়া নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। মাঝে মধ্যে ঝগড়ায়ও রূপ নেয়।</p>
</div>
<div style="text-align: justify;">আজ বুধবার। তৃতীয় পিরিয়ড। গণিত ক্লাস। হঠাৎ ঘন্টা পড়তেই ক্লাসের সকলে হৈ হৈ করে বাইরে মাঠে চলে গেল। তার আগে অবশ্য ম্যাম ক্লাসরুম ত্যাগ করেছে। আমি আমার টিফিন বক্সটা বের করি।</p>
</div>
<p>-কি এনেছিস? সেই প্রতিদিনকার ভাজি রুটি মিথিলা জিজ্ঞেস করে?</p>
<p>&#8211; না, আসলে আজ আম্মু একটু সময় করে নুডুলস বানিয়ে দিয়েছে। আমি উত্তর দেই।</p>
<p>-মিথিলা টিফিন বক্স বের করে বলে দেখ আমি আজ চাওমিন এনেছি। অনেক মজা। জানিস আমার আম্মু খুব ভালো বানায়।</p>
<p>-আমার মাও ভালো বানায়।</p>
<div style="text-align: justify;">-না, আমার মা একটু বেশি ভালো বানায়। আমার মায়ের চাওমিন অনেক মজা। এর তুলনা হয় না। মিথিলা জবাব দেয়।</p>
</div>
<div style="text-align: justify;">আমি হেসে বলি, যাহ— তোর মায়ের চাওমিন মজা না। এতবার বলা লাগে। আমি আমার নুডুলসটা খেতে থাকি। ওর দিকে তাকিয়ে দেখি ও গোমরা মুখে টিফিন খাচ্ছে। আমি ওর মন খারাপ হতে দেখে ওর কাছে গিয়ে বলি, দে আমি তোর টিফিনটা খাই। তুই রাগ করছিস কেন? আমি তো মজা করেই বললাম। মজাও বুঝিস না। আমি মিথিলার চাওমিনটা খেয়ে ওর দিকে আমার নুডুলসটা এগিয়ে দিয়ে বলি নে তুইও খা। আজ তো আর সমস্যা নেই এটা খেতে। ও আমার নুডুলসটা থেকে এক চামচ নুডুলস খেয়ে আমার টিফিন বক্সটা দূরে সরিয়ে দিয়ে বলে, কি নুডুলস এনেছিস। নুডুলসটা কি খাওয়া যায়। কেমন দলা পাকিয়ে আছে। আবার বলে আমার চাওমিন খেতে খারাপ। আমার খুব রাগ হলো। কি করলো এটা মিথিলা। খুব ঝগড়া করি মিথিলার সাথে আজ। ঝগড়ার মাঝে ব্যাগ গুছিয়ে ওর বেঞ্চ ছেড়ে পেছনের বেঞ্চে গিয়ে বসি। কান্না পায়। কেউ কি টিফিন নিয়ে ঝগড়া করে। ছিঃ ছিঃ কি বিষয় নিয়ে ঝগড়া করলাম। নাহঃ ওর সাথে কথা বলব না ওর টিফিনও খাব না। মিথিলাও গাল ফুলিয়ে বসে আছে। একবারও এসে বলল না যে আমার ভুল হয়েছে। সরি, আর হবে না। চল এক সাথে বসে টিফিন করি। ঘন্টা পড়তেই চিন্তায় ছেদ পড়ে। টিফিন পিরিয়ড শেষ হলো। ইংরেজি ক্লাস। একটু পরেই ইংরেজি ম্যাম আসেন। এসে বলেন, আজ আর তোমাদের ইংরেজি ক্লাস করাব না। তোমাদের সবাই নিশ্চয়ই ক্লাস করতে করতে একখেয়ামি লাগে। সবাই উচ্চস্বরে বলে, জ্বি ম্যাম। তাহলে চল আমরা সবাই মিলে এমন একটা কাজ করি যা আমাদের জীবনে সহায়তা করবে। ক্লাসে রুনা দাঁড়িয়ে বলে, সেটা আবার কেমন? ম্যাম বলেন, বসো। আমার কথা শুনো তাহলেই বুঝতে পারবে। ম্যাম এবার বলা শুরু করল, তোমাদের আমি একটা করে কাগজ দেব। তোমরা সেই কাগজে নিজেদের সমস্যার ও কষ্টের কথা লিখে আমার কাছে জমা দেবে। ক্লাসের সবাই একে অপরের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। ম্যাম বলেন, অস্বস্তির কোনো কারণ নেই। আমি কাউকে কারও সমস্যা বা কষ্টের কথাগুলো বলব না। রুনা আবার দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করে, ম্যাম আপনি আমাদের সমস্যার কথা জেনে কি করবেন। ম্যাম বলেন, আমি তোমাদের সমস্যা বা কষ্টের কারণগুলো সমাধান করব। তোমরা সবাই কি রাজি আমার প্রস্তাবে। সবাই হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ালো। ম্যাম সবাইকে একটা করে কাগজ দিলো। আমি কাগজটা পেয়ে ভাবলাম, আমি কি লিখব। পরোক্ষণে আমার আজ যা ঘটল তার কথা মনে পড়ল। আজ যা ঘটেছে তা তো আমাকে কষ্টই দিয়েছে। আমি আজকের টিফিনের ঘটনার কথাই লিখব। দেখি কি সমাধান পাই। আমি কাগজে সম্পূর্ণ ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিই। তারপর কাগজটা ভাজ করে ভাজের উপরে নিজের নাম লিখে ম্যামকে জমা দিই। ঘন্টা পড়তেই ম্যাম সবার কাগজটা জমা নিয়ে ক্লাস রুম ত্যাগ করে। আর আমিও ম্যামের আবার ক্লাসে আসার অপেক্ষায় থাকি।</p>
</div>
<div style="text-align: justify;">আজ শনিবার। দ্বিতীয় পিরিয়ড। ইংরেজি ম্যামের ক্লাস। আমি বেশ অস্থির। কখন ম্যাম ক্লাসরুমে আসবেন। হঠাৎ আমার চিন্তাকে ঘুচিয়ে দিয়ে ম্যাম ক্লাসে আসলেন। সালামের ধ্বনিতে মুখরিত হয় ক্লাসরুম। আমি বেশ উত্তেজিত হয়ে বলি, ম্যাম সমস্যার সমাধানগুলো কি দেবেন না।</p>
</div>
<div style="text-align: justify;">—ও, হ্যাঁ। দেবো। তোমরা সবাই শান্ত হয়ে বসো। ম্যাম একের পর এক সমাধানের কথা বলে গেলেও আমি যে সমস্যার কথা লিখেছি তার সমাধানের কথা একবারও বলেননি। হঠাৎ ম্যাম আমাকে ও মিথিলাকে ডাক দেন। তিনি বলেন, তোমরা দুইজন আমার কাছে এসো। আমরা ম্যামের কাছে গেলাম। ম্যাম বলেন, ইমি আমি তোমার সমস্যার কথা পড়েছি আর বুঝতে পারি যে সমস্যার মূল বিষয় টিফিন। ম্যাম মিথিলার দিকে তাকিয়ে বলেন, আচ্ছা, টিফিন মানে কি মুখরোচক ভালো ভালো খাবার? তুমি কি জান এই টিফিনের সাথে মায়ের হাতের কত যত্ন জড়িয়ে থাকে। মা অনেক মমতা সহকারে সকলের জন্য টিফিন তৈরি করে। আর এই টিফিন নিয়ে তোমরা প্রতিযোগিতা শুরু করেছ। তোমাদের মধ্যে অনেকে আছে যারা টিফিন আনতে পারে না। কেননা, মা সময় করে টিফিন তৈরি করতে পারে না। যার মা যেমন সময় পায় তার মধ্যেই সকলকে টিফিন বানিয়ে দেয়। খাবার জন্য টিফিন হতে হবে স্বাস্থ্যসম্মত যা তোমাদের ক্ষুধা দূর করবে। কিন্তু খাবার জন্য টিফিন কখন এমন হবে না যে কার মা কত ভালো ও কত মুখরোচক টিফিন বানাতে পারে। তোমরা কি জান তোমাদের চারপাশে থাকা পথশিশু, ওরা খাওয়ার জন্য খাবার খুঁজে পায় না। ময়লা ঘাটাঘাটি করে না হলে ভিক্ষে করে খায়। আবার অনেকে আছে না খেতে পেয়ে মারা যায়। আরও কত নিদারুণ দৃশ্য যে আছে চারপাশে। আর তোমরা তো খেতে পাও। তারপরও ভালো খাবার নিয়ে প্রতিযোগিতা করো। একবার পথশিশুদের কথা ভেবে দেখো। নিজেকে ওদের পরিস্থিতিতে দাঁড় করালে বুঝতে পারবে যে তোমরা কত ভালো আছ। আমি তখন মুখ নিচু করে তাকিয়ে আছি। ভুল আমারও। ঝগড়া না করে মিথিলাকে বুঝালেই পারতাম। হঠাৎ মিথিলা আমার হাত ধরে বলে, সরি। শুধু শুধু তোকে আমি এত বাজে কথা শুনিয়েছি। আর কখনও আমরা টিফিন নিয়ে ঝগড়া করব না। আমরা আবার এক সাথে মিলেমিশে টিফিন করব। আমি তখন বলি, আমাকেও ক্ষমা করে দে। ঝগড়া না করে নিজেদের মধ্যে মিটমাট করে নিলেই পারতাম। তখন হঠাৎ ঘন্টা পড়ে গেল। ম্যাম চলে যাবেন। আমি আর মিথিলা এক সাথে ম্যামকে বলি, ধন্যবাদ। আমাদের ভুলগুলোকে শুধরে দেয়ার জন্য।■</p>
</div>
<p style="border-top: 1px dashed #e7e9df; padding-top: 8px; margin-top: 12px; font-size: 9pt; color: #8a9a95;">উৎস: 04. Sahitto / Story September 2026.doc · টিফিন</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
