|

মুরগী ছানা

মুরগী ছানা
সাহিত্য — গল্প · সেপ্টেম্বর ২০২৬

মুরগী ছানা

— তামান্না চৌধুরী

লায়লার মা খুব শখ করে একটা মুরগী পালতেন। চোখে চোখে রাখতেন সেই মুরগীটাকে। মুরগীটা যখন ডিম পাড়া শুরু করল তখন লায়লাদের দু’বোনের খুশীর সীমা ছিল না। ওরা যখন- ডিমভাজি খেতে পারতো। বিদঘুটে, স্বাদহীন ঝোল দিয়ে ভাত আরখেতে হত না। তবে তারা দুইবোন মাকে কখনো সেই ডিম খেতে দেখেনি। একদিন তাদের মা অনেকগুলো ডিমে মুরগীটাকে বসিয়ে দিয়ে বললেন, এর থেকে না-কি বাচ্চা ফুটবে। শুনে দুই বোনের কৌতুহলের যেন শেষ নেই। ওরা চাপা আনন্দ নিয়ে অপেক্ষা করতে লাগলো।

সত্যি সত্যি একদিন ডিম থেকে ছানাগুলো বের হয়ে এলো। কি সুন্দর দেখতে! এতো নরম, তুলতুলে! দেখেই কতো আদর করতে ইচ্ছে করে। লায়লা আর তার বোন সায়লা বাচ্চাগুলোকে চাল দিতো। ওদের সমস্ত অনুভূতি ছিল সেই মুরগীর বাচ্চাগুলোকে ঘিরে। উঠানের পাশেই পাশের বাড়ির ওরা শিম গাছ লাগিয়েছে। প্রায় সেখানে ওদের মুরগী ছুটে যায়। কি জানি কুটকুট করে খায়। সে জন্য একদিন পাশের বাড়ির চাচা লাঠি দিয়ে মুরগীর পায়ে আঘাত করলেন। এরপর থেকে মুরগীটা খুড়িয়ে খুড়িয়ে হাঁটত। শেষ কয়েকদিন আর দাঁড়াতে পারেনি। মুরগীটা মারা গেল। ওর মৃত্যুর পর বাচ্চাগুলোও কেমন করে জানি একটা একটা করে হারিয়ে গেল। হয়তো কোনো পাখি নিয়েছে, কোনোটি আবার বিড়াল মেরে ফেলেছে।

লায়লা আর শায়লা মা’কে জিজ্ঞেস করলো, মা কেন ওরা মারা যাচ্ছে? মা বললেন, “মা ছাড়া সন্তানরা বাঁচে না রে মা! বাঁচলেও সেই বাঁচাটা বাঁচার মতো হয় না। মা মানেই যে ছায়া। ছায়া ছাড়া দেহ হয় না। ছায়া সরে গেলে দেহের অস্তিত্মত্বও থাকে না।”

মুরগী ও তার বাচ্চাগুলো মারা যাওয়ার পর মা খুব কেঁদেছিলেন। তখন ওদেরও বড্ড খারাপ লেগেছিল। এরপর মা কখনোই আর কিছু পালেননি।■

উৎস: 04. Sahitto / Story September 2026.doc · মুরগী ছানা