আমার ছুঁয়ে দেখা মেঘ
— Tour September 2026.doc
আকাশের দিকে তাকিয়ে মেঘ দেখতে কার না ভালো লাগে, সেই ছোটবেলা থেকেই আকাশের দিকে তাকিয়ে মেঘ দেখি। আজ যা লিখব আমার বান্দরবানের ভ্রমণের কথা, যেখানে মেঘ ছুঁয়ে দেখেছি। একবার আমাকে আমার পরিচিত একজন সকালে ফোনে জানালো তারা আজ রাতে বান্দরবান যাবে চারজন মিলে। বাসের টিকিটও কাটা হয়ে গেছে। কিন্তু তাদের সাথের একজন যেতে পারবে না। আমাকে এখন যেতে হবে তাদের সাথে। জোর করেই ধরল। আমি আর না করলাম না তাকে, বাসায় এসে তৈরি হয়ে নিলাম। আমরা মোট চারজন, তবে এখানকার একজন ছাড়া বাকি কাউকে আমি চিনি না। আগেই বলে রাখি বান্দরবানে যেখানে যাচ্ছি, এটা আমার প্রথম যাত্রা।
রাত ৯ -৩০ রওয়ানা দিয়ে বান্দরবান শহরে আমাদের ভোরে পৌঁছানোর কথা। কিন্তু জ্যামের কারণে বিধি বাম। রাস্তায় কাটাতে হলো ভোর পেরিয়ে সারাটি দিন। হোটেল খুঁজতে খুঁজতে সন্ধ্যা হয়ে গেল। কী আর করা সন্ধ্যায় বান্দরবান শহর এদিক-সেদিক ঘুরে নিলাম। এখন মোটামুটি বাকি দুই জনের সাথে ভাব পরিচয় হয়ে গেল। তাছাড়া আমি যখনই ভ্রমণে বের হই, সে সময় তাকে আনন্দময় করার চেষ্টা করি। ভ্রমণটা যেন মজা হয়, এই দিকে আমার খেয়াল থাকে। তাছারা দুষ্টুমি আমি কম জানি না। আর তারাও দুই জন মোটামুটি আমাকে ভালোভাবেই চিনে নিল। আমাদের যেহেতু একদিন দেরি হয়ে গেছে তাই আগামী কাল সকাল থেকে আমরা কখন কি করব মোটামুটি একটু ঠিক করার চেষ্টা করলাম। রাতের খাবার খেয়ে পরের দিনের জন্য গাড়ি ঠিক করতে গেলাম। সেখানে আমাদের আরো দুজনের সাথে পরিচয় হলো, এখন মোট আমরা ছয় জন। যে দুই জন আমাদের সাথে যুক্ত হলো তারাও ঢাকাতেই থাকে।
পরের দিন যথারীতি আমাদের ভ্রমণ শুরু হলো। গাড়ির জন্য বসে আছি আর দুই জন গেছে গাড়ি খুঁজতে। অনেক খোঁজাখুঁজির পর আমরা গাড়ি পেয়ে যাত্রা শুরু করলাম। গাড়ির চালক জাহিদ। প্রথমে গেলাম শৈলপ্রপাত। সেখানে অনেক ছবি তুললাম। তারপর গেলাম নীলাচল। খুব আনন্দ নিয়ে ভ্রমণ করলাম।
পরের গন্তব্য নীলগিরির দিকে। যথারীতি আমরা যাত্রা শুরু করলাম। গাড়ির সামনে বসা আমি, বাকি পাঁচজন পেছনে বসা। আমাদের গাড়ি এখন বেশ উপরে, বলতে গেলে মেঘের সমান হয়ে ছুটে চলেছে। দূরে তাকিয়ে তাকিয়ে আমি মেঘ দেখছি। হঠাৎ করে আমাকে অবাক করে দিয়ে সাদা মেঘের ভেলা আমাদের গাড়ির সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। আমাদের গাড়ি এখন মেঘের ভিতর। বিন্দু বিন্দু জল পুরো গাড়ির এপাশ থেকে ওপাশে চলে যাচ্ছে, হালকা ভিজিয়ে দিচ্ছে আমাদের। আমি জাহিদকে বললাম গাড়ি থামাতে। সবাই গাড়ি থেকে নেমে যে যার মত ছবি তুলছেন। সবাই এখন মেঘের ভিতরে। প্রকৃতি এত সুন্দর! তা ভাবা যায়?
আমাদের সামনে যে পাহাড়টা দেখতে পাচ্ছি তার অর্ধেকটা সবুজ, আর বাকি অর্ধেকটা মেঘে সাদা হয়ে আছে। দেখতে কী সুন্দর লাগছে! যা লিখে বা বলে বোঝানো যাবে না। চালক জাহিদ আমাদেরকে জানালো গাড়ি এখানে বেশিক্ষণ রাখা যাবে না। তাই আমাদেরকে একবুক কষ্ট নিয়ে চলে যেতে হবে। তবে বেশি সময় আমাদেরকে হতাশ হতে হলো না। আবার আরেক টুকরো মেঘ এসে হাজির। সবাই আবার গাড়িতে উঠলাম। গাড়ি চলছে। পৌঁছে গেলাম নীলগিরি। সেখানে ছবি তুললাম। আমাদের চারজনের কাছেই কিন্তু ক্যামেরা আছে। কিছু সময় পরেই হঠাৎ বিশাল একটি মেঘ এসে আমাদেরকে ঢেকে ফেললো আর সাথে নিয়ে এলো বৃষ্টি, অঝোরে বৃষ্টি হলো।
বৃষ্টি শেষে আমাদের গাড়ি ছাড়লো। এবার রুমা বাজারের উদ্দেশ্য। রাস্তায় আমাদের গাড়ি থামালো চা খাওয়ার জন্য। আর আমি এ ফাঁকে পাহাড়ি পেয়ারা, শসা, পেঁপে, আনারস আর সাথে হলুদের ফুল কিনে নিলাম। আমরা ঠিক চারটার দিকে রুমা বাজারে আসলাম। এরপর সেনাবাহিনীকে অবহিত করলাম, সেই হলুদের ফুলের ভরতা, মুরগির মাংস সবজি এগুলো দিয়ে পেট পুরে খেলাম। তবে জোঁকে ধরবে বলে পথ থেকে গুল, ছুরি, মসকিটো, কেরোসিন তেল ইত্যাদি কিনে নিয়েছি।
এবার আমাদের গাড়ি ছুটল ১১ কিলোমিটারের দিকে। আঁকাবাঁকা পথ ধরে আমাদের গাড়ি এগোতে লাগলো। আমরা সবাই প্রকৃতি দেখে মুগ্ধ। সবাই এখন প্রকৃতির সাথে একাকার হয়ে গেছে। আমাদের গাড়ি মেঘ ভেদ করে সামনের দিকে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে সরম্ন পথ দেখলে মনে হয় এই বুঝি আমাদের গাড়ি পড়ে গেল নিচে। এমন করে আমরা সামনের দিকে এগোতে লাগলাম। কিছুক্ষণ পরে জাহিদ আমাদেরকে নামতে বললো, জানালো সামনের পথ খুব খারাপ। যেমন সরম্নপথ, তেমনি খাড়া রাস্তা। সাথে যুক্ত হয়েছে লাল আঠালো মাটি। একবার যদি কোন ভাবে নিচে পড়ে, তাহলে আর গাড়ি খুঁজে পাওয়া যাবে না।
একে একে সবাই গাড়ি থেকে নেমে গেল আমি ছাড়া। আমি নামতে রাজি হলাম না। যা হওয়ার হবে, আমি গাড়িতেই থাকবো। জোর করেই বসে রইলাম গাড়িতে। জাহিদ আমার দিকে একটু তাকিয়ে হাসি দিলো। বাকিরা সবাই গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে যাচ্ছে আর আমি শুধু জাহিদের সাথে বসে আছি।
গাড়ির সামনে যা কিছু ছিল, সব নামিয়ে রাখল আর আমাকে সিট বেল্ট বেঁধে নিতে বললো। আমার হাতে ক্যামেরা ছিল তা রেখে দিতে বললো। দুই হাত দিয়ে গাড়ি ধরে রাখতে বললো। এবার যাত্রা শুরু।
আমাদের গাড়ি একেবারে খাড়া হয়ে সোজা উপরের দিকে উঠছে যাচ্ছে।
হঠাৎ করে আমাদের গাড়ি সামনের দিকে আগাতে পারছে না। পরে বুঝলাম গাড়ির চাকা কাঁদায় আটকা পড়েছে। আমার বাঁ দিকে নিচের দিকে ছোট্ট একটি গ্রাম দেখা যাচ্ছে আর সামনে যখন তাকালাম তখন মনে হচ্ছে আমরা শূন্যে ভেসে আছি। আমার রক্ত হিম শীতল হয়ে পুরো শরীর ঠান্ডা হয়ে গেছে। মুখে কোন কথা আসছে না। আমার কী করা উচিত, আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। আমার মনে হয়, আমি চার থেকে পাঁচ মিনিট গাড়িতে ছিলাম। এই পাঁচ মিনিট হয়তো আমি আর কখনো ভুলতে পারবো না।
আমাদের গাড়ি এখন নিরাপদ স্থানে। এক এক করে সবাই গাড়িতে উঠল। সবাই আমাকে একেক রকম কথা জিজ্ঞেস করছে। আবার কেউ আমাকে বকা দিচ্ছে, এই সময়টুকু আমি কিভাবে কিসের মধ্য দিয়ে গিয়েছি শুধু আমি জানি। যাক কিছু সময় পরেই আমরা ১১ কিলোমিটার পৌঁছালাম, এরপর আর আমাদের গাড়ি সামনের দিকে যেতে পারবে না রাস্তা নেই। আমাদেরকে হেঁটে যেতে হবে।
গন্তব্য আমাদের বগালেকের দিকে।
মাঝে চা বিরতি দিলাম সাথে আমাদের একজন গাইড, জাহিদ ঠিক করে দিয়েছেন। নাম তার মিশুক তবে একটু চালাক প্রকৃতির। আমরা ঢালু পথ দিয়ে নিচের দিকে যাচ্ছি। মাঝে কিছু লোকের সাথে কথা হলো। তারা বগালেক থেকে ফিরছিল। তারা জানালো এই পথগুলো তেমন কিছু না। শেষের ৩০ মিনিট খুব কষ্টের হবে। আমরা তাদের কথায় তেমন পাত্তা দিলাম না।
আমাদের হাঁটার সুবিধার প্রয়োজনে আমরা একটি করে লাঠি নিয়ে নিলাম। সবাই হাঁটতে শুরু করলাম। কেউ আগে, কেউ পিছে। আমার সাথে আমাদের গাইড মিশুক, সামনের দিকে হাঁটছি আর ওর সাথে কথা বলছি। এখানকার অনেকগুলো ঘটনা সে আমাকে জানালো। মাঝে আমরা একটু বিশ্রামও নিলাম। আমাদের কাছে তেমন পানি ছিল না। যা ছিল তা শেষ। অনেকের এখন পানি পিপাসা পেয়েছে। মিশুককে জানালাম। সে একটি ছোট ঝণার্ দেখিয়ে সেখানে পানি খেতে বলল। আমরা তাই করলাম।
বিকাল গড়িয়ে প্রায় সন্ধ্যা হতে চলেছে। আমরা হাঁটছি আর হাঁটছি। মিশুককে জিজ্ঞেস করি আর কত দূর? সে উত্তর দেয় এই সামনের পাহাড়ের পরেই। এই পাহাড় আর শেষ হয় না। একটার পর একটা পাহাড় আমরা পাড়ি দিচ্ছি, রাস্তা আর শেষ হচ্ছে না। মিশুককে জিজ্ঞেস করলেই বলে, “এইতো চলে আসছি”। ওকে জিজ্ঞাসা করা ছেড়ে দিয়েছি। মিশুক এক ঘণ্টা আগে যা বলেছে এক ঘন্টা পরে সেই একই কথা বলছে। এখন ওকে অনুসরণ করে হাঁটছি আর ওর বানানো গল্প শুনছি। আর মাঝে মাঝে সবাইকে তাড়া দিচ্ছি একটু জোরে হাঁটার জন্য। সবাই খুব ক্লান্ত্ম। আবার গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি পড়তে শুরু করলো।
আমরা একটি ছোট গ্রামে এসে পৌঁছালাম। মিশুক আমাদেরকে জানালো সামনের পাহাড়টার পেছনেই বগালেক আর মাত্র ৩০ মিনিট। ছোট্ট একটি দোকানে চা, পানি, বিস্কুট খেয়ে নিলাম। সবার পা কাদায় একেবারে মাখামাখি। সবাই জুতা পড়ে আছে আর আমি স্যান্ডেল পরা। সবাই পা ধুয়ে নিচ্ছে আর মিশুক আমাদের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দিচ্ছে। ওর হাসিকে পাত্তা না দিয়ে আমরা হাঁটতে শুরু করলাম।
গ্রাম ছেড়ে যখন আমরা পাহাড়ের দিকে গেলাম তখনই পরলাম ঝামেলায়, চারিদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। মিশুকের কাছে একটিমাত্র টচর্, তা দিয়ে আমরা সামনের দিকে মিশুককে অনুসরণ করে হাঁটছি। নাহ্ কোনো ভাবে সম্ভব না, এমনিতেই বৃষ্টি তার সাথে যুক্ত হয়েছে পিচ্ছিল আঠালো মাটি আর কাদা। শেষে আমি আর অনি, আফতাব ভাই মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে সামনের দিকে এগোতে লাগলাম।
আমার সে-ই লোকগুলোর কথা মনে পড়লো। শেষ ৩০ মিনিট- আমরা সেটা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। অনেকে আবার হাঁটতে যেয়ে ধুপ-ধাপ করে পড়ে কাঁদায় একেবারে মাখামাখি। এই কষ্টের মধ্যে আনন্দ খোঁজার জন্য আমি গুণতে শুরু করলাম কে কতবার পড়ে যাচ্ছে। একজন করে আছাড় খায় আর আমি গুণে যাচ্ছি। সবাই হাসতে হাসতে শেষ।
আমি শুধু সবাইকে বললাম কেউ যদি পিছল খায় তাহলে যাতে অন্য কাউকে না ধরে। তারা যেন ছোট ছোট গাছগুলোকে ধরার চেষ্টা করে। আর মিশুককে বললাম সে যেন দলের শেষে চলে যায়, আর আমি সামনের দিকে।
এখন প্রায় সবাই কাদায় মাখামাখি। সবার চোখে এখন মৃত্যুর ভয়। কেউ কারো দিকে তাকাতে পারছে না আর আমি কারো সাথে মজা করার সাহসও পাচ্ছি না। সবার কাঁধে একটি করে ব্যাগ, কেউ বলছে ব্যাগগুলো এখানে রেখে যাই। কাল যাওয়ার সময় ব্যাগগুলো নিয়ে যাব। সবার শরীর খুব ভারী হয়ে গেছে, সবার মনে এখন ভয়। এই ৩০ মিনিটে রাস্তা যেন শেষ আর হচ্ছে না। এই ৩০ মিনিটে মনে হচ্ছে ৩০ বছরের রাস্তায় এটা। খুব কষ্টে হামাগুড়ি দিয়ে উপরের দিকে উঠছি আমরা। এমন ভয়ানক পথ পাড়ি দিতে দিতে হঠাৎ একটু আলো দেখতে পেলাম, মিশুক আমাদেরকে জানালো ওইটাই নাকি বগালেক, তারপরেও আমাদেরকে সেখানে পৌঁছাতে ১৫-২০ মিনিট লেগে গেলো।
মিশুক আগেই আমাদের খাবারের কথা বলে রেখেছে সেখানে, ঘর পেলাম যেখানে শুধু আমরা ছয় জনই থাকবো। ঘরে ঢুকতেই দেখি ঢালাও বিছানা করা মাচাং ঘর। বিছানা দেখে কিন্তু আমাদের শুয়ে যেতে মন চাচ্ছে কিন্তু আমাদের যে কাঁদায় একেবারে মাখামাখি। একজন ছাড়া সবাই আমরা ব্যাগ রেখে লেকের দিকে ছুটে গেলাম। আমাদের শরীর খুবই ক্লান্ত্ম। চারদিকে খুব অন্ধকার, আমরা পাঁচজন ছাড়া আর কেউ নেই, এক এক করে সবাই লেকে নেমে পড়লাম। গলা পযর্ন্ত্ম পানিতে বসে রইলাম কেউ কোন কথা বলছে না সবাই চুপ। এমন করে কতক্ষণ ছিলাম জানা নেই, তারপরও যখন উঠে এলাম মনে হলো আমাদের সকল ক্লান্ত্মি কেটে গেছে। নিজেকে খুব বেশি হাল্কা মনে হচ্ছে।
আমরা সবাই ঘরেই গিয়ে তৈরি হয়ে এখন সবাই খেতে যাচ্ছি। আমাদের সাথে যে একজন লেকে নামেনি তাকে এখানেই পানির ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছে, সেও আমাদের সাথে যাচ্ছে খেতে।
কিন্তু প্রকৃতি তার সাথে রসিকতা ছাড়েনি। সে আবার পা পিছলে কাদায় গড়াগড়ি খেলো। আমি আর না হেসে পারলাম না, সাথে সাথে কত নম্বার আছাড় খেলো- সবাইকে জানাতে দেরি করলাম না। আমার সাথে সাথে সবাই হেসে দিল। তিনিও কাদায় গড়াগড়ি খেয়ে শুয়ে হেসে দিলেন। উনি আবার গেলেন তৈরি হতে আর আমরা গেলাম খেতে।
খাওয়া শেষে সবাই ঘরে এসে যে যার মত শুয়ে পড়েছে। রাত মনে হয় ১টা কি ২টা হবে, অনি তখন নামাজ আদায় করতে গেল। একেবারে সকালবেলায় মিশুক আমাদেরকে ডেকে তুলল, অন্যরা আরো কিছুক্ষণ পরে উঠবে। এখনই বেরিয়ে পড়ব আমরা। আমি আর অনি কোথায় যাচ্ছি আফতাব ভাই জানতে চাইলো। অনি বললো চিংড়ি ঝরনা দেখতে।
আমি মিশুকের কাছে জানতে চাইলাম রাস্তা কি কালকে রাতের মতোই হবে কিনা? সে জানালো রাস্তা খুবই ভালো। আমরা মিশুকের কথা বিশ্বাস করে সামনের দিকে এগোতে লাগলাম। আমার এবং অনির হাতে হাঁটার লাঠি।
আঁকাবাঁকা এবং পাহাড়ি রাস্তা ধরে আমরা সামনের দিকে এগোতে লাগলাম। সামনের দিকে এগোতেই ছোট্ট একটি ঝরনা পড়ল। আমরা পাহাড়ি পথ ধরে সামনের দিকে এগোতে লাগলাম, আর নিচের দিকে তাকাতেই দেখি ছোট ছোট পাহাড়। কিছুক্ষণ পরে যা দেখলাম নিজের চোখে বিশ্বাস করতে পারছি না। এতক্ষণ যে ছোট ছোট পাহাড় দেখেছি সেগুলো আর দেখতে পাচ্ছি না। এখন মেঘে ঢেকে গেছে, আমরা এখন মেঘের উপরে। হঠাৎ করেই দেখি সামনে বিশাল মেঘ এসে আমাদেরকে ঢেকে দিল। আমাদের পুরো শরীর ভিজিয়ে দিল। সাথে করে আমরা রেইনকোট এনেছিলাম, তা পরে নিলাম এবং ক্যামেরাটা তার ভিতরে ঢুকিয়ে দিলাম যেন না ভিজে যায়।
নিজের ভিতর এখন অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করছে। যে মেঘকে উপরের দিকে তাকিয়ে দেখতাম এখন সেই মেঘ আমার নিচে তাকিয়ে দেখছি। ভেতর থেকে মোবাইল ফোনটা বের করলাম ছবি তোলার জন্য, তবে ফোনে ছবি তুলে মনটাকে তৃপ্ত করতে পারছি না, তাই ক্যামেরা বের করে নিলাম ভালো করে ঢেকে নিলাম গামছা দিয়ে, যাতে না ভিজে যায়।
মন ভরে ছবি তুললাম। আর এদিকে বৃষ্টির পানিতে রাস্তা ভিজে কাদা হয়ে যাচ্ছে। আমরা আস্ত্মে আস্ত্মে সরম্ন পথ ধরে সামনের দিকে এগোতে লাগলাম। মিশুক আমাদেরকে জানালো যে এখন আমরা বগালেক থেকে অনেক অনেক উপরে। ভাবতে খুব ভালই লাগছে, যে মেঘ নিয়ে এত কথা, সেই মেঘ এখন আমাদের নিচে। নিচের দিকে তাকিয়ে এখন আমরা মেঘ দেখছি, কী অসাধারণ দৃশ্য! আসলেই ব্যাপারটা কাউকে বোঝানোর মত না। এত কষ্ট করে উপরে যে উঠে এলাম, সেটা এখন আর কষ্ট মনে হচ্ছে না।
এর মাঝে আমাদের অনি কিন্তু কয়েকবার আছাড় খেয়েছে। এ দিকে মেঘ আমাদের নিয়ে খেলছে। কখনো আমাদের ছেড়ে চলে যায়, আবার আমাদের ঢেকে দেয়। মাঝে মাঝে আবার নিচের দিকে চলে যায়। বাহ্! কী অসাধারণ খেলা মেঘের! আমরা মেঘের খেলা উপভোগ করতে করতে সামনের দিকে এগোতে লাগলাম।
উৎস: 04. Sahitto / Tour September 2026.doc · 34 অনুচ্ছেদ (Bijoy, 40,960 bytes) — পূর্ণাঙ্গ
