|

ফিজিক্সের মজা

ফিজিক্সের মজা
সাহিত্য — গল্প · সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফিজিক্সের মজা

— রিফাহ রায়হানা

এয়ারপোর্ট হতে বেরিয়ে আসছেন বৃদ্ধ ব্যাংকার মোহাম্মদ আহসান। তিনি আজ প্রায় তিরিশ বছর পর দেশে ফিরছেন। নাতি-নাতনিদের বড়ো অংশই বাংলাদেশে থাকে। ওরা কেউ না কেউ বছরান্তে দাদুর সাথে দেখা করে আসে। এবার দাদু নিজেই চলে আসছেন বলে ওদের খুশি দেখে কে! রুহি, জিম, জারা, আশফাক, সাজিদ আর ওসমান— সবকুলের নাতি-নাতনিরা। সবাই দল বেঁধে এয়ারপোর্টে আসতে চাইছিল; বড়দের চোখ রাঙানিতে সংখ্যাটা দুজনে এসে থামল। সবচেয়ে বড় রুহি আর সবচেয়ে ছোট ওসমান আসে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী পাঁচ ফিট সাড়ে পাঁচ ইঞ্চি রুহির সাথে তিন ফুট সাড়ে তিন ইঞ্চি ওসমানকে সামনে দাঁড় করানো হয়েছে যাতে ওদেরকে সবার আগে দেখেন আহসান সাহেব।
রুহি বার বার ঘড়ির দিকে আর গেটের দিকে তাকাচ্ছে। “দাদুটা কই গেল? আসছে না কেন এখনো?” তখনই দাদুকে বেরিয়ে আসতে দেখা গেল। একটা ট্রলি ঠেলতে ঠেলতে বেরুচ্ছেন। আর চারপাশে ঔৎসুক্যে তাকাচ্ছেন। স্বজনরা যে কোথায় গেল? তার দেহভঙ্গির ভাষা যেন এটাই। রুহি বুঝে ফেলল তার এ দেহভঙ্গির ভাষাটা।
“দাদু, আসসালামু আলাইকুম।” চিৎকার দিয়ে বলল রুহি। আহসান সাহেবও ডাক শুনতে পেয়েছেন। তিনি দ্রুত রুহিদের দিকে আসতে চাইলেন। লম্বু রুহি আর পুচকে ওসমানকে দেখে খুশি হলেন খুব। ওদের দিকে দৌড়ে আসতে চাইলেন; কিন্তু আর্থ্রাইটিসের ব্যথা আর ট্রলিটা বাধা দিল।
“দাদু! সোনা দাদু আমার!” আদুরে সুরে বললো রুহি। “তুমি জানো না এভাবে ট্রলি ঠেললে তোমার কষ্ট বেশি হয়?”
—কেন আপু? কী করেছি? মিষ্টি হেসে জিজ্ঞেস করলেন তিনি।
—কারণ ফিজিক্স বলে, কোনো কিছু তুমি ঠেললে তোমার যে পরিমাণ বল লাগবে, তা যদি তুমি টানো তবে তোমার বল কম লাগবে।
—তাই নাকি রে! কেন এমন হয়? আগ্রহ নিয়ে জানতে চান দাদু।
—তুমি তো ট্রলিটা এতক্ষণ ঠেলেছ। এবার টেনে আনো তো। তারপর বলছি।
—হাঁ টানছি। আরে! সত্যিই তো টানার বেলায় সহজেই নিয়ে আসা যাচ্ছে।
—হাঁ দাদু, এর কারণ হলো কোনো কিছু টানা বা ঠেলার জন্য তুমি যে বল প্রয়োগ করো তা দু অংশে ভাগ হয়ে যায়। একটা সামনের দিকে লম্বভাবে আরেকটা উপর বা নিচের দিকে। রুহি বলতে থাকল— যখন আমরা ঠেলি তখন সামনের বলটা ছাড়া অপর লম্ব বলটা নিচের দিকে কাজ করে। ফলে বস্তুটির ওজনের সাথে আর একটা অংশ যোগ হয়। এতে বস্তুটির ওজন বেড়ে যায়। তাই ঠেলতে কষ্ট হয়।
পুচকে ওসমান তখন বলে ওঠে, “রুহি আপু, আর আমরা যখন টানি তখন ওজন থেকে সে বলটা বিয়োগ হয় তাই না?” সবাই অবাক চোখে ওসমানের দিকে তাকায়। রুহি পিঠ চাপড়ে দিয়ে বলে, “মাশাআল্লাহ, তুমি তো বেশ বুদ্ধিমান! ঠিক তাই। এ কারণেই টানলে ওজন কম মনে হয় আর কাজটা সহজ হয়।”
—কী মজা আমি পেরেছি। এই বলে ওসমান হাততালি দেয়। তারপর ডাকে বাবাকে। “এখন আর ঠেলে ঠেলে আমাকে গোসল করাতে বাথরুমে ঢোকাবে না। টেনে টেনে ঢোকাবে। তোমার কষ্ট কম হবে, কেমন?” ওসমানের বলার ভঙ্গিতে অন্যরা না হেসে পারলো না।

উৎস: 04. Sahitto / Story September 2026.doc · ফিজিক্সের মজা