|

ভূতের গলির ভূত

ভূতের গলির ভূত
সাহিত্য — গল্প · সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভূতের গলির ভূত

— শিবুকান্তি দাশ

মনির এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। রেজাল্ট বেরুবে দুই মাস পর। এ সময় কি করবে সে। সারাদিন ফেসবুক দেখে কি সময় কাটানো যায়। মনির বই পড়তে ভালোবাসে। সে দূরে কোথাও গেলে সাথে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিভূতিভূষণ, শরৎচন্দ্র বা নজরুলের বই সঙ্গী করে। সাম্প্রতিক কালে টিভিতে হুমায়ুন আহমেদের নাটক দেখে উনারও ভক্ত হয়ে গেছে। হঠাৎ সেদিন ছোট চাচা ডাকতে ডাকতে পড়ার ঘরে গিয়ে দেখে মনির হুমায়ূন আজাদের ‘ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল’ বইটি পড়ছিল। চাচাও অবাক। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। ছুটিতে বাড়ি আসছেন। উনার নাম সবুজ। সবুজ চাচা মনিরকে খুব ভালোবাসে।
দুজনের বয়সের ব্যবধান চার বছরের। তবু চাচা মনির সাথে অনেক কথা শেয়ার করে। ঢাকার অনেক গল্প করে মনিরের কাছে। বলল জানিস, সেদিন ভূতের গলিতে গিয়েছিলাম।
ভূতের গলি? ঢাকায় ভূতের গলিও আছে? বলেন কি।
—হ্যাঁ রে। ভূতের গলি। আমিও প্রথমে বিশ্বাস করিনি। কিন্তু সত্যি সত্যি ভূতের গলি যে আছে রে ভাতিজা। তুই কখনো ঢাকায় গেলে তোকেও নিয়ে যাবো। না না বাবা। আমার ভূতের গলিতে যাওয়ার দরকার নেই। ভূত যে কখন ঘাড় মটকে দেয় তার কোন গ্যারান্টি আছে।
—মনিরের কথায় সবুজ চাচা হেসেই খুন। আরে বোকা ভূত কোন কালে থাকলেও এখন আর নেই। আমি দুই বছর থেকে ঐ গলিতে যাওয়া আসা করি। ওদিকে আমার এক বন্ধুর বাসা। কখনও ঐ বন্ধুর বাসায় যেতে হলে ভূতের গলি হয়ে যেতে হয়।
—বাহ বাহ। তোমার তো সাহস আছে বটে।
—কেন রে। এটা এমন কি সাহসের হলো। কত মানুষই তো সেখানে বাস করে, কেউ বা ব্যবসা বাণিজ্য করে। কই কখনো তো ভূতের খারাপ কিছু শুনিনি।
—ভূত দেখেছে এমন কাউকে কি পেয়েছো চাচা। যিনি ভূতের সাথে দেখা হয়েছে, ভূত তাকে গাছের আগায় নিয়ে তুলে রেখেছে বা পুকুরের মাঝখানে নিয়ে ভাসিয়ে দিয়েছে।
—হা হা হা করে চাচা এক গাল হাসি হেসে মনিরকে জড়িয়ে ধরে বলল, ওখানে দিনে রাতে শত শত মানুষ নানা কাজে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ভূত আসবে কি ভাবে?
—আসবে আসবে। ভূতের আগুন চোখ দেখেছো চাচা? টিভিতে এক নাটকে দেখেছি অন্ধকার রাতে শশ্মান ঘাটে অনেক ভূত। কোনোটা লুলা, কোনোটা খোঁড়া, কোনটার আবার মাথা নেই।

—ভূত তো অনেক রকম রয়েছে। মামদো ভূত, মেছোভূত, রামভূত, শশ্মান ভূত আর কত কি। চাচা তুমি ভূতের গল্প পড়োনি। পৃথিবীতে নাকি ভূত বলে কিছু নেই।
—চাচা কিছুটা অবাক হয়ে মনিরের দিকে তাকিয়ে আছে।
—এই মনির হঠাৎ কি হলো রে তোর। বল না কি হয়েছে। তোর চোখেও পানি।
—কামাল মামা ম-রে গেছে বলে হাউ মাউ করে কান্নায় ভেঙে পড়ে। চাচা তো ঠান্ডা হয়ে গেলো। মনিরের মা পাশের ঘর থেকে দৌড়ে এলেন।
—চাচার মুখ দিয়েও কোন কথা সরছে না। চুপচাপ তাকিয়ে আছে মনিরের দিকে। আর মনে মনে ভাবছে তাহলে ভূতের গলিতে যে দেখা হলো সেই কামালটা কে? নাকি ভূত হয়ে কামালের বেশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পৃথিবীতে তো তাহলে সত্যিই ভূত আছে।

উৎস: 04. Sahitto / Story September 2026.doc · ভূতের গলির ভূত (সংক্ষেপিত)