সাহিত্য — গল্প · সেপ্টেম্বর ২০২৬
সামাজিকতা
— শিমু বেগম
আমার যত কাগজপত্র, চিঠি, দাওয়াতনামা, সই করে কাগজ নেওয়া— সব কাজ আমার ছোট ছেলে রেজা খুব আগ্রহ নিয়ে করে। আর সব কাগজপত্র সুন্দর করে গুছিয়ে টেবিলে রাখে। বাসায় ফেরার সাথে সাথে চিঠি, কাগজপত্র ও পানি এনে দেয়। ওর অনেকগুলো ভালো অভ্যাসের মধ্যে এটা একটা ভাল অভ্যাস।
সে দিন বাসায় ফেরার সাথে সাথেই বলল, ‘মা আজ একটা পিকুলিয়ার ইনভাইটেশন আসল। বলেই জিজ্ঞেস করল মা পিকুলিয়ার মানে অদ্ভুত তাই না?’ আমি পানি খেতে খেতেই মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ সূচক উত্তর দিলাম। সাথে সাথে একটা ইনভাইটেশন কার্ড বের করে দিয়ে বলল, ‘মা প্যাট হাউজের মনি আন্টি দাওয়াত করেছেন তার বিড়ালগুলোর জন্মদিন আগামী শনিবার।’ উত্তরে আমি বললাম, ‘ঐ আধ পাগলের কোনো কাজ নেই, তাই মাঝে মাঝে পাগলামিটা বাড়ে।’
শনিবার মনি ফোন দিল মনে করিয়ে দেয়ার জন্য যে তার বিড়ালের আজ জন্মদিন। যেন মিস না করি। উবারে করে বিকেলে রেজাকে নিয়ে রওনা হলাম চিড়িয়াখানা রোড মিরপুরে প্যাট আপেট ক্যাফেতে। এখানে সবাই পোষা পশু পাখি নিয়ে আসে।
বাহ! কি সুন্দর ক্যাফে বলল রেজা। দেয়ালে কুকুরের পায়ের ছাপ, বিড়াল, বিড়ালের লেজ, খরগোশ ইত্যাদি আঁকা। পরিচ্ছন্ন, আকর্ষণীয়। আধঘন্টা সব দিক ঘুরে এসে রেজা বলল মা এখানে সবাই মনি আন্টির মতো পুরো পাগল। কিছু না বলে কানটা ধরে টান দিলাম। চুপ কর, কথা কম।
যথারীতি কেক কাটা হল, সবাইকে দেয়া হল আমার ভাগের কেকটা রেজাকে দিয়ে দিলাম। রেজা খেতে খেতে বলল, ‘মা ব্ল্যাক ফরেস্ট, মজা নয়। আচ্ছা মা ওরা বলছে বিড়ালটাকেও কেক খেতে দিবে।’ বললাম ‘হু।’ ‘মা বিড়ালরা কিভাবে খাবে? চামচ কাটা দিয়ে, নাকি সব বিড়ালের সামনে রেখে দিবে ওরা মারামারি, কাড়াকাড়ি করে খাবে?’ খুব আগ্রহ নিয়ে বিড়ালের কেক খাওয়া দেখল রেজা।
বাসায় ফেরার পথে শুধু ভাবতে লাগলাম গতরাতে আমার বাসার সাহায্যকারী মহিলা রেবা তার মেয়ে অসুস্থ পাঁচদিন ধরে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি তাকেও দু’হাজার টাকা দিলাম। আর এখানেও সামাজিকতা রক্ষা করতে দু’হাজার টাকা দিলাম। কি অদ্ভুত সামাজিক পরিস্থিতির শিকার আমরা মানুষ।
উৎস: 04. Sahitto / Story September 2026.doc · সামাজিকতা
