শিক্ষামূলক গল্প · সেপ্টেম্বর ২০২৬
খেলা শেষ করে বাসায় এসে নাস্তা করে সে পড়তে বসে যায়। রাতে বাবা বাসায় ফেরার পর যখন সবাই রাতের খাবার খাচ্ছিল তখন খাবার টেবিলে রায়হান চিড়িয়াখানা যাওয়ার কথাটা তুলল। মা ও চিড়িয়াখানা যাওয়ার আগ্রহ দেখালেন।
অনেকবার বলার পর শেষমেষ বাবা রাজি হয়ে বললেন, আগে তোমার পরীক্ষা শেষ হোক পরে কোনো একদিন যাব। রায়হান বাবার কথা শুনে খুশি হলো। পরীক্ষা শেষ হওয়ার প্রথম শনিবার তারা চিড়িয়াখানার উদ্দেশ্যে রওনা হল। রায়হান চিড়িয়াখানার বাইরে থেকে কিছু বাদাম ও চিপস কিনল। চিড়িয়াখানায় ঢুকেই তার চোখে পড়ল বিরাট একটি খাঁচা। পুরো খাঁচা ভর্তি খালি বানর আর বানর। রায়হান এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে তার ক্যামেরা দিয়ে ধমাধম ছবি তুলতে থাকে বানরের। বানরগুলি বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গিতে মানুষদের হাসাচ্ছিল। কেউ তাদেরকে বাদাম খেতে দিলে বাদাম হাতে নিয়ে খেতে থাকে।
হঠাৎ তার কানে একটি বিশাল গর্জন এসে বারি খায়। সে আশপাশে তাকিয়ে দেখল মানুষরা সামনে আরেকটি খাঁচায় ভিড় জমাচ্ছে। সেও দৌড় দিয়ে খাঁচার সামনে গেল। সে দেখলো দুইটি বিশাল আকৃতির রয়েল বেঙ্গল টাইগার খাঁচার ভিতর পায়চারি করছে। তাদেরই মধ্য থেকে একজন জোরে জোরে গর্জন করছিল। সে একদৃষ্টিতে বাঘের দিকে তাকিয়ে তার গর্জন শুনছিল। হঠাৎ সে তার পাশ থেকে কান্নার শব্দ শুনতে পেল। তার ছোট বোন এতো বড় বাঘ দেখে এবং তার গর্জন শুনে ভয়ে কান্না করে দিয়েছিল। তার মা ওকে কোলে নিয়ে কান্না থামানোর চেষ্টা করছিল।
যখন বাঘ গর্জন বন্ধ করে দেয় তখন অন্যরাও খাঁচার সামনে থেকে সরে যায় ছয় সাতজন ছাড়া। হঠাৎ করে রায়হানের মনে পড়ল তার সাথে তো ক্যামেরা ছিল। সে তো বাঘের একটি ভিডিও করতে পারতো। রায়হানের আফসোস হচ্ছিল অনেক। দুঃখ ভরা মনে সে আবার সামনের দিকে এগুতে লাগল এবং নতুন নতুন পশুর খাঁচা আবিষ্কার করতে লাগল। আর আস্তে আস্তে তার মনের ভারও হালকা হয়ে যেতে লাগল।
রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ রায়হানের ক্ষুধা লেগে গেলো। সে ক্যামেরাটা তার বাবার হাতে দিয়ে তার মায়ের কাছ থেকে একটি স্যান্ডউইচ নিয়ে খেতে লাগল। রায়হানের বাবা পাশের একটি দোকানে জুস কিনতে গেলেন। কিন্তু রায়হান ও তার বোন হাঁটতে থাকলেন। তারা দাঁড়ালেন না। তারা হাঁটতে হাঁটতে ভাল্লুকের খাঁচার সামনে এসে দাঁড়ালেন। ভাল্লুক তখন তার খাঁচায় ছিল না। তাকে পাশের রুমে রাখা হয়েছিল। কারণ এখন তার খাবারের সময়। তাই তাকে পাশের রুমে বন্দি করে রাখে গার্ড। এই রুমে তার খাবার জায়গায় অনেকগুলো মালটা, বাধাকপি, গাজরসহ আরো কতগুলো ফল, সবজি রাখা ছিল।
রায়হান তার বাবাকে খুঁজতে খুঁজতে আশা ছেড়ে দিয়েছিল। সে তখনই তার পেছন থেকে আওয়াজ পেল তার বাবা তাকে ডাকছে ‘রায়হান, রায়হান’। সে পেছনে তাকিয়ে দেখল তার বাবা ভিড়ের পেছন থেকে হাত বাড়িয়ে রেখেছে তার দিকে। আর তার বাবার হাতে তার ক্যামেরা। সে ভিড়ের উপর থেকে হাত দিয়ে তার বাবার হাত থেকে ক্যামেরাটা নিল কিন্তু ঘুরে দেখল ভাল্লুকটি বসে খাওয়া শুরু করে দিয়েছে। তার মন খারাপ হয়ে গেল। তখন পাশের সেই রুম থেকে আরেকটি বিশাল আকারের ভাল্লুক বেরিয়ে এলো। সেই ভাল্লুকটি ফল সবজির মাঝখান থেকে একটি বাধাকপি হাতে নিয়ে অন্য দিকে দৌড় দিল — সে যেন নাচছে! রায়হান হতবাক।
স্কুলে ফটোগ্রাফির প্রতিযোগিতা ছিল। রায়হানও সেটাতে অংশগ্রহণ করেছিল। রায়হানের ছবি দ্বিতীয় মনোনীত হয়। সবাই বিজয়ীদের হাততালি দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়। প্রধান শিক্ষক প্রথম স্থান অর্জনকারীকে সার্টিফিকেট ও একটি আধুনিক ক্যামেরা উপহার দেন। রায়হানকে ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীকে সার্টিফিকেট ও মেডেল উপহার দেন। রায়হান রাতে ঘুমাতে পারছিল না। সে আফসোস করছিল যে যদি সে বাঘের গর্জনের ভিডিও ও ভাল্লুকের নাচের ছবি তুলতে পারতো আর সেটি প্রতিযোগিতায় জমা দিতে পারত তাহলে হয়তো সে প্রথম স্থান অর্জন করতো আর সেই আধুনিক ক্যামেরাটিও পেত।
লেখক: রোহান আহম্মেদ · সেপ্টেম্বর ২০২৬ · ছোটদের ভুবন — গল্প
