|

ঢাকা শহরের প্রথম মেথরপট্টি

ঢাকা শহরের প্রথম মেথরপট্টি
সাহিত্য — ফিচার · সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকা শহরের প্রথম মেথরপট্টি

— এ কিউ এম কিবরিয়া

যদিও ১৮২৬ সালে ঢাকা উন্নয়নের জন্য একটা কমিটি গঠন করা হয় কিন্তু এর সত্যিকারের কার্যক্রম শুরু হতে আরও কয়েক দশক লেগে যায়। ১৮৪৬ সালের পর। খাজা আলিমুল্লাহ তখন ঢাকার নবাব বাড়ির মোতোওয়ালি, ব্রিটিশরাজ ঢাকা পৌরসভা প্রতিষ্ঠা করেছে। কিন্তু এ পৌরসভার সার্বিক সহায়তা ও দেখভালের দায়িত্ব বর্তেছে নবাব পরিবারের উপর।

ঐ সময়ের বড় চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে নগরবাসির জন্য সুপেয় পানি আর শহরের পরিচ্ছন্নতা ছিল সবচেয়ে উল্লেখ্য দুটি। এই দুটিকে পৃষ্ঠপোষকতার দায়িত্ব পেল নবাব পরিবার। এর মধ্যে সুপেয় পানির বিষয়টা বহুলাংশে প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি নির্ভর কিন্তু পরিচ্ছন্নতার বিষয়টা মূলত মনুষ্য নির্ভর।

সমস্যাটি বহুমাত্রিক। ঢাকা এবং তার আশপাশে প্রচুর বেকার কর্মহীন দরিদ্র মানুষ থাকলেও পরিচ্ছন্নকর্মী হবার জন্য প্রস্তুত নয় প্রায় কেউই। কেবল মাত্র ডোম শ্রেণি বংশানুক্রমিক এ কাজে অভ্যস্থ। কিন্তু এরাও পারিবারিক পেশা ছেড়ে এ তা কাজে যোগ দিতে প্রস্তুত নয়। অথচ হাজার কয়েক পরিচ্ছন্নকর্মী প্রয়োজন।

নবাব পরিবার সন্ধান চালালো আরও দূরে। কোলকাতা, পাটনা, মাদ্রাজ, তেলেঙ্গানা, অন্ধ্র, ঝাড়খণ্ড। পাওয়া গেল অন্ধ্র আর তেলেঙ্গানায়। দলে দলে যাযাবর। শুকর পালন করে আর এই পরগণা থেকে ঐ পরগণায় ছুটে বেড়ায়।

অদ্ভুত এদের জীবন। কোথাও স্থায়ী আবাস গড়তে বড্ড পিছিয়ে। বউ ছেলে মেয়ে সবই আছে। আর আছে শুকরের পাল। প্রায় সকলেরই নেই কোনো স্থায়ী আবাস। শুকরগুলো নিয়ে হেঁটে বেড়ায় এই ভাগাড় থেকে ঐ ভাগাড়ে। আসলে ভূ-সম্পদে মালিকানা নেই বললেই চলে।

ব্রিটিশ সরকারের সহায়তা নিয়ে এ যাযাবর গোষ্ঠীগুলোকে ঢাকায় আনবার আয়োজন শুরু হলো; কিন্তু ওরা থাকবে কোথায়? সারা শহর ঘুরে বেড়ালে তো আরেক বিড়ম্বনা। আবার হাত বাড়ালেন নবাব পরিবার। খ্রিস্টান কবরস্থানের পেছনে বিশাল জায়গা রয়েছে। কিছু জঙ্গল কিছু টিলা, পাশে জলা। ওদিকটায় ভদ্রলোকের বাড়ি ঘর তেমন একটা নেই। যদিও কাছেই বলধা গার্ডেন।

বিশেষ লঞ্চ স্টিমার করে কয়েক দফায় নিয়ে আসা হলো এই তেলেগু পরিবারগুলোকে ঢাকায়। জায়গা দেয়া হলো পূর্ব নির্ধারিত সেই জায়গায়। স্থাপিত হলো ঢাকা শহরের ‘প্রথম মেথরপট্টি’।

উৎস: 04. Sahitto / Feture September 2026.doc