সাহিত্য — গল্প · সেপ্টেম্বর ২০২৬
কাজী নজরুল ইসলাম ও বীরেন স্যার
একদিন স্যার আমাকে ডাকেন। বলেন, তোকে লিচু চোর আবৃত্তি করতে হবে। স্যার হাতে লেখা লিচু চোর কবিতা’র একটি পৃষ্ঠা দেন। কাজী নজরুল ইসলাম এর কবিতা। বাড়িতে নিয়ে আসি। পড়ি জোরে জোরে। করি অনুশীলন। এ ঘর থেকে ও ঘরে যাই। লিচু চোর আমার সাথে। অর্জুন গাছের নীচে। পুকুর পারে। কবিতা পড়েছি ছড়া পড়েছি। আবৃত্তি করে পড়া। সেটি তখনও বুঝি নি। স্যার দিয়েছেন। তাই পড়ছি। কোথায় পড়বো কিভাবে পড়বো কিছুই জানি না।
বেশ কিছুদিন পর। স্কুলে ঢুকেই দেখি দশম শ্রেণির নীচ তলার বড় ক্লাশে বিশাল আয়োজন। উঁচু বেঞ্চ জড়ো করে একটি মঞ্চ করা হয়েছে। সামনে ছোট বেঞ্চ সারি সারি বসানো। স্কুলের সকল ছাত্র ছাত্রী বসবে। শিক্ষকবৃন্দ দুই পাশে বসবেন। চেয়ার আনা হয়েছে বিভিন্ন ক্লাশ হতে। স্যারদের রুম হতে। বীরেন স্যার বলেন, কী আবৃত্তি ঠিক আছে তো? আমি তখনও কিছুই বুঝিনি। এখনই তোর নাম ডাকবে। উপরে মঞ্চে উঠে আবৃত্তি করবি। মাইকের সামনে। স্যারকে কী জবাব দিবো। লিচু চোর কিভাবে পড়বো। কিছুই বুঝতে পারিনি। স্যার বললেন, লিচু চোর মনে আছে তো। আমি আরো হতভম্ব। লিখে দিয়েছি সে লেখা কবিতা আছে তো। আমি দৌঁড়ে খাতার ভিতর হতে নিয়ে আসি। স্যার বললেন, আর চিন্তা নেই। দেখে বললেই হবে।
কবিতার এই জায়গায় এসে মঞ্চে আমি সড়াৎ করে শুয়ে পড়েছিলাম। এটি বেশ হাসাহাসির জন্ম দিয়েছিল। স্যার আমাকে কোলে করে মঞ্চ থেকে নামিয়ে আনেন। পুরস্কার বিতরনীতে প্রধান শিক্ষক আলতাফ হোসেন স্যার সুন্দর কাগজে মুড়ানো একটি বই দিলেন। বীরেন স্যার এগিয়ে আসেন। সাথে আদর সোহাগ সবটুকু উজাড় করে মাথায় হাত রাখেন। মুড়ানো কাগজ খুলে দেখি। সঞ্চিতা কাজী নজরুল ইসলাম। আমার দুয়ারে কাজী নজরুল ইসলাম এলেন। কাজী নজরুল ইসলামকে যদিও অনেক কবিতায় বেশ কয়েক বছর আগেই পেয়েছিলাম। সঞ্চিতা পেয়ে একেবারে তুলকালাম কান্ড। বাসায় অনেক বই। তবে প্রতিবেশি সকলে আমার সঞ্চিতা নিবেন। নিচ্ছেন আবার ফেরত দিচ্ছেন। সঞ্চিতা নিয়ে কত ঝগড়া। তুলকালাম কান্ড। কেউ বলছেন দিতেই হবে। এত তাড়াতাড়ি ফেরত নেয়ার দরকার কি। অন্য বই পড়ো। এটি পরে পাবে। আমার বই আপনারা নিবেন কেন। এইটুকু বলার শক্তি বা সাহস আমার এবং আমাদের ছিল না। সাহসের জন্য প্রয়োজন কাজী নজরুল ইসলাম। প্রেমের কবি দ্রোহের কবি জাতীয়তাবাদী কবি সাম্যের কবি গণ মানুষের কবি কাজী নজরুল ইসলাম। আজ পরিণত জীবনে এসেও সাহস দেখাতে পারি না। সাম্য মৈত্রী অসাম্প্রদায়িক চেতনার উম্মেষ ঘটাতে হয়ে পড়ি কুন্ঠিত। জড়তা দ্বিধা কাটানোর শিক্ষা কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের শিখেয়েছেন। বীরেন স্যার’কে স্মরণ করি। শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করি জাতীয় বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর প্রতি। বাঙলা বাঙালী বাংলাদেশ সমৃদ্ধ পরিশীলিত হোক নজরুল চচার্র মধ্য দিয়ে।
বিশ্ব শান্তি ও সাম্য প্রতিষ্ঠায় কাজী নজরুল ইসলাম এবং তাঁর সৃষ্টি ও কীর্তির অমরত্ব প্রার্থনা করি।
উৎস: 04. Sahitto / Eassay September 2026.doc · কাজী নজরুল ইসলাম ও বীরেন স্যার
